লাক্স সুপারস্টার ২০২৫ হলেন রাজশাহীর বিদুষী বর্ণিতা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬

দীর্ঘ এক বছরের রোমাঞ্চকর পথচলা এবং কয়েক হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে অবশেষে

পর্দা নামল দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য ও প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা

‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’-এর। শুক্রবার রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক

সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের নতুন

লাক্স সুপারস্টার হিসেবে ঘোষিত হয়েছে রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতার নাম। জমকালো এই

আয়োজনে দেশের শোবিজ জগতের একঝাঁক তারকার উপস্থিতিতে বর্ণিতার মাথায় সেরার মুকুট

পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন পাবনার নাযাহ

নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম।

বিজয়ীর নাম ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণে মঞ্চে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজের নাম

শোনার পর বিদুষী বর্ণিতা আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়

তিনি জানান যে, এই দীর্ঘ যাত্রার শুরুতে তিনি কখনো ভাবেননি যে এত বড় সম্মান অর্জন

করতে পারবেন। নিজের কঠোর পরিশ্রম, সৃষ্টিকর্তার রহমত এবং দর্শকদের ভালোবাসাকেই তিনি

এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেরা বিজয়ীর মুকুট জেতার পাশাপাশি

বর্ণিতা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং সম্মানজনক ট্রফি। তবে

তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফীর আগামী চলচ্চিত্রে

প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুবর্ণ সুযোগ।

পুরস্কার বিতরণের এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি

তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস খান এবং লাক্স সুপারস্টার ও

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। অনুষ্ঠানে ফরিদুর রেজা

সাগর নতুন এক ঘোষণা দিয়ে জানান যে, এবারের আসরের শীর্ষ বিজয়ীদের নিয়ে একটি বিশেষ

ওয়েব ফিল্ম নির্মাণ করবেন প্রখ্যাত নির্মাতা শিহাব শাহীন। এটি নবীন এই প্রতিভাদের

পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের আসরে প্রতিযোগীদের দক্ষ করে তোলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন

তিন মেন্টর— দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান, বর্তমান সময়ের নাট্যরানি

মেহজাবীন চৌধুরী এবং নির্মাতা রায়হান রাফী। চূড়ান্ত পর্বে পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্যে

থেকে সেরাদের বাছাই করা ছিল বিচারকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। শীর্ষ তিন বিজয়ীর

বাইরে ফাইনালিস্ট হিসেবে লড়াই করেছেন আফরীন ইয়ুমনা ও তিস্তা পাল। প্রথম রানারআপ

নাযাহ নাওয়ার পুরস্কার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ আমিনা ইসলাম তিন

লাখ টাকা লাভ করেছেন।

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের নক্ষত্র তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত লাক্স সুপারস্টার

প্রতিযোগিতাটি ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রথম আসরে শানারেই দেবী শানু বিজয়ী

হওয়ার পর থেকে এই প্ল্যাটফর্মটি জাকিয়া বারী মম, আফসান আরা বিন্দু, আজমেরী হক বাঁধন

এবং মেহজাবীন চৌধুরীর মতো অসংখ্য শক্তিমান অভিনয়শিল্পী উপহার দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮

সালে মিম মানতাসা এই খেতাব জিতেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আয়োজিত এই

প্রতিযোগিতাটি প্রমাণ করল যে, সঠিক সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম পেলে প্রান্তিক শহরগুলো

থেকেও প্রতিভাবান নক্ষত্ররা উঠে আসতে পারে। বিদুষী বর্ণিতার এই জয়যাত্রা ঢালিউডের

রূপালি পর্দায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলেই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ

করছেন।