মানবসম্পদ রক্ষায় তামাকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি: চিফ হুইপ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত আন্তরিক। তারা তামাকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে চেষ্টা করছে এবং যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এর ব্যবহার বাড়তে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, মানবসম্পদ ছাড়া আমাদের কোনও প্রকৃত সম্পদ নেই। মানবসম্পদকে রক্ষা করতে হলে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারীর স্বাস্থ্যে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার আইন’ শক্তিশালী করার গুরুত্ব শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা সংস্থা (উবিনীগ) এর সহযোগিতায় তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) মতবিনিময় করেছে। চিফ হুইপ বলেন, বিশ্বজুড়ে সবাই জানে, তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। এখানে একজন তামাক সেবন করলে পাশের ১০ জন মানুষও আক্রান্ত হয়। তামাকের ব্যবহার রোধের বিকল্প আর কিছুই নেই—এ কথা সবাই জানে, এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি সবাইকে এই মহৎ উদ্যোগে স্বাগতম জানিয়ে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ধাপগুলো আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে অনেক বাধা-বিপত্তি রয়েছে। কিছু চাপের কারণে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ করানো সম্ভব হলেও তামাকের ব্যবসা এখনো চালু রয়েছে। তামাকের বিপরীতে অন্য বিকল্প চাষের জন্য তিনি সবাইকে উৎসাহ দেন। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন তামাক চাষ করবেন? তামাকের বদলে অন্য চাষে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রযুক্তি আজ অনেক উন্নত কিন্তু ৭০ এর দশকে তৈরি হার্টের চিকিৎসার প্রযুক্তি আজও আমাদের অজ্ঞান। আমরা কেন প্রতিনিয়ত মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছি? পৃথিবীতে এত বড় অর্থনৈতিক বাণিজ্য থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি তৈরি করতে পারছি না? ছোট ছোট হৃদরোগের ঘা এখনো ধরা সম্ভব হয়ে ওঠেনি, অথচ মানুষ এই ভাবে মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সমস্যা অনেক সময় নেগেটিভ প্রচারণার মাধ্যমে পজিটিভ রেজাল্ট দেয়। যেমন, হেরোইন বা ইয়াবা আসার আগে সরকারের ‘অ্যান্টি-হেরোইন’ প্রচারণা করতে গেলে, যুবসমাজের মনে এর কৌতূহল তৈরি হয়। সেই কারণেই অনেকের জন্য এই প্রচারণা ভ্রান্ত ধারনার সৃষ্টি করে। তিনি পরামর্শ দেন, ২০০৫ সালে তামাকবিরোধী আইন তৈরি হয়েছিল এবং বিএনপি সরকারের সময় তামাকের বিজ্ঞাপন টেলিভিশন থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এর জন্য চিঠি লেখার পরামর্শ দেন, যেখানে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে—সিগারেটের ক্ষতি, আইন প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের সহযোগিতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ, তিনি দেশের সকল মানুষের প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ডা. সোহেল রেজা চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী cohort এবং তাবিনাজ ও উবিনীগের সদস্যরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। SHARES জাতীয় বিষয়: