স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি হয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। আর তখনই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভয়ঙ্কর আঘাতে দেশপ্রেমিক মানুষরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, ঠিক সেই সময় মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া সেদিন সেনা সদস্যদের কাছে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ চেয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, অস্ত্রসমর্পণ করতে হবে না। এরপর তিনি দুই শিশুপুত্র নিয়ে ঢাকায় চলে যান, সেখানে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। মির্জা ফখরুল বলেন, এই তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে কাজ করেন কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী। তবে দুঃখের বিষয়, আওয়ামী লীগ ওসমানীকে সমুন্নতভাবে মূল্যায়ন করেনি, এই ইতিহাসটি অনেকটাই উপেক্ষিত হচ্ছে। জনগণের সামনে এ সব ইতিহাসের বিস্তারিত প্রকাশ জরুরি। অতীতে আওয়ামী লীগ কখনোও এমএজি ওসমানীকে যথাযথভাবে স্মরণ করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেক সময় আমি খুব কষ্ট পাই যখন কিছু কিছু রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব অস্বীকার করে বা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন। যারা মুক্তিযুদ্ধের সত্যতা অস্বীকার করতে চায়, আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, গর্ব, ঐতিহ্য এবং অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। জুলাইয়ে সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কেউ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এদেশে বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ আবার আন্দোলনে নেমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পাশাপাশি দেশের গৌরবও বৃদ্ধি করেছে। এই ইতিহাস আমাদের গর্বের অংশ। তাই আমরা মুক্তিযুদ্ধকে অন্তর থেকে ধারণ করি। মোকাবিলা করে চলা এই সংগ্রামের স্মৃতি আমাদের আগামীর জন্য শক্তি যোগায়। তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজনীতিবিদ জনগণকে বিভ্রান্ত করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অস্বীকার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বলে, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ স্বীকার করে না— এটা একেবারেই ভুল। এই অপপ্রচারগুলো কখনো মানা যায় না। তিনি জানান, দেশের সংস্কার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আবারও উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সর্বশেষ তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশের সংস্কারমূলক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চাই এবং এর বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, সদস্য সচিব হুমায়ূন কবিরসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কো-অর্ডিনেটর নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক খান। SHARES জাতীয় বিষয়: