প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বিনিয়োগের জন্য চ্যালেঞ্জ দূর করার গুরুত্ব

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬

দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পখাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালু করা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা ছাড়াই সহজে দেশে আনাটা, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাเสนอ করেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেকে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেন। এই পরিষদ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের জন্য একটি সরাসরি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগের বিভিন্ন সমস্যা ও সংশোধনের অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মতামত দিতে পারবেন। এই প্রথমবারের মতো গঠিত এই পরিষদ আগামী দুই বছরের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক আইন, নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হবে যা ব্যবসাবান্ধব ও সহযোগিতামূলক। ব্যবসায়ী নেতারা সংসদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন, যেমন ব্যবসা সহজতর করতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজকরণ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত করা ও গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর প্রস্তাব। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা আসার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে সরকারি প্রয়োজনীয়তা ও সহায়তার দাবি করেন। একইসঙ্গে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিমানবন্দরে অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারেও দাবী জানানো হয়। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা শুনেছেন এবং খুব শিগগিরই সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা মাঝারি উদ্যোক্তাদের রফতানি বাড়ানোর জন্য লাইসেন্স সহজের পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি প্রসেস চালু করার ব্যাপারে মনোযোগ দেন। ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো ও করের চাপ কমানোর বিষয়েও আলাপ আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার সম্মতি করেছে, যা জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারের লক্ষ্য, সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুতের ২০-৩০ শতাংশ উৎপাদন নিশ্চিত করা। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’-সংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী কিছু সমস্যা অতি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন এবং বাকিগুলোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। অর্থমন্ত্রী আলোচনা শেষে জানান, অনেক প্রকল্প পুনরায় চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। ধীরে ধীরে দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকার ও বেসরকারি খাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। সংগঠনের সদস্যরা হলো ড. আরিফ দৌলা (এসআসিআইপি), সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর (এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড), হাফিজুর রহমান খান (রানার গ্রুপ), আহসান খান চৌধুরী (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), জিয়াউর রহমান (বে গ্রুপ), আবদুল মুকতাদির (ইনসেপ্টা গ্রুপ), মো. আব্দুল জাব্বার (ডিবিএল গ্রুপ), সোহানা রউফ চৌধুরী (র‌্যাংগস গ্রুপ), ও সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ)। উল্লেখ্য, সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিডা এই সব উদ্যোগের বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।