বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বৃহৎ উল্লম্ফন: বর্তমানে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো জাগিয়েছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ঐতিহাসিক উল্লম্ফন। এই প্রবাহের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এখন আবারও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্লোবাল রিজার্ভ এখন ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মূলত বৈধ পদ্ধতিতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এর ফলে প্রাপ্ত অর্থের প্রবাহের কারণে এই উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্চ মাসে প্রবাসীরা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা এক অনন্য ঘটনা। এই বিপুল অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার ফলে কিছুতেই রিজার্ভে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। ১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪.২৫ বিলিয়ন ডলার, যা এক দিনের ব্যবধানে বেড়ে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও দেশের রিজার্ভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পদ্ধতিতে হিসাব করে দেখা যায়, রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা একদিনে ২০ কোটি ডলার বৃদ্ধি। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য সংকট কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও রিজার্ভের এই উর্ধ্বগতি বাংলাদেশের জন্য এক কৌশলগত বিজয়। যদি এই রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা ও উচ্চমূল্যের আমদানির ব্যয় নির্বাহ সহজ হবে। এর ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক स्थিতিশীলতা সুদৃঢ় হবে, পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন।