গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জালিয়াতি করেছে: রাশেদ খান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

বাংলাদেশের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেন, গণভোট সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বড় ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে বিএনপি এবং আরও অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি সোমবার (৩০ মার্চ) নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রথমে তিনি জানান, বাতিল করা হচ্ছে গণভোটের জন্য আনা অধ্যাদেশ। এ ধরনের বিল আকৃতিতে সংসদে পাস হচ্ছে না, এমন খবর বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, কিন্তু বিস্তারিত বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা থেকে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বিষয়গুলো বোঝার জন্য এবং বোঝানোর জন্য যোগ্য লোকের অভাব রয়েছে। আগে থেকেই জানানো হচ্ছে, গণভোটের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হলেও, বিষয়টি নিয়ে অর্থাৎ সেটার ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু বিতর্ক এবং মতভিন্নতা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে, যখন জাতীয় সংসদ ভবনে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর হয়, তখনও নোট অফ ডিসেন্ট ছিলো। পরে, সরকার গণভোটের জন্য উপস্থাপিত দলিলগুলো থেকে যদি নোট অফ ডিসেন্ট বাদ দেয়া হয় বা বাতিল করে দেয়, তাহলে এটিই বড়ো জালিয়াতি বলে রাশেদ খান উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকাকালীন সময় থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা এই নেতা আরও জানান, তখন জারি হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামের অধ্যাদেশ। এতে চারটি প্রশ্নের জন্য অপশনের বদলে, যদি চারটি পৃথক উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকতো, তাহলে মানুষ স্বাধীনভাবে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু এখানে আবারো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বড়ো দুর্নীতি করে, প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে নানা কৌশলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

আরও বড়ো বিপত্তি হলো, জাতীয় নির্বাচনের পরে জাতীয় ঐক্যমতের বিষয়গুলো সংসদে পুনরায় আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধান করার চেয়ে, সরকার দ্রুতগতিতে একযোগে গণভোট পরিচালনা করে ফেলেছে। এতে করে, সাধারণত হয় যে, দেশজুড়ে গণভোটের সময় হয় জাতীয় নির্বাচনের পরে। কিন্তু এই সরকার ঐক্যমত সূত্রে অপ্রয়োজনীয় সময় ক্ষেপণ ও চাপিয়ে দেয়, ফলে গণভোটটি প্রথম বা একই দিনে সম্পন্ন হয়। ফলে, বিএনপি মনে করছে, যে অধ্যাদেশের প্রয়োজন ছিলো তা ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে, আর নতুন করে আবার আলাপ আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

রাশেদ খান আরো অভিযোগ করেন, বিএনপির বক্তব্য সত্য, সংসদে আলোচনাপূর্বক ঐক্যমত না হওয়া পর্যন্ত গণভোটে যাওয়া উচিত। কিন্তু সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে, ভয় দেখিয়ে, জোরপূর্বক গণভোট করিয়েছে, যেন বিয়ের আগে বাচ্চা জন্মানোর মতো অবস্থা। ছাত্র উপদেষ্টাদের ভাষায় এই পরিস্থিতি ‘ডিপ স্টেটের পরামর্শে’ ৫ বছরের মধ্যে নির্বাচন না হয় এমন চক্রান্ত। উল্লেখ করেন, বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির জন্য এইসব নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

তিনি বলছেন, বিএনপি যেসব বিষয়ের প্রতি সম্মতি জানিয়েছিল, সেগুলো আগেই সংস্কার করবে। কারণ গণভোট অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করার মানে হলো আলোচনা, যেখানে নোট অফ ডিসেন্ট ছিলো, সেই সব বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা শেষ থাকলে আর তা থেকে পরবর্তীতে ঐক্যমত না আসলেই গণভোটে যাওয়ার বিধান বজায় থাকবে। এর আগে, এই প্রক্রিয়াগুলোর কার্যকারিতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সম্পন্ন হয়। তিনি মন্তব্য করেন, এই সব দোষ বিএনপির নয়; বরং এটি ডিপ স্টেটের পরামর্শে কয়েকজন দুষ্ট উপদেষ্টা ও কমিশনের সদস্যরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এমনকি, নির্বাচনের উদ্যোগ যাতে বাস্তবায়িত না হয়, সেই জন্য কিছু রাজনৈতিক দল সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে, বিএনপি ছিলো বিচক্ষণ ও সতর্ক, তারা কৌশলে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে রাশেদ খান উল্লেখ করেন।