মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত তাদের খাদ্য মূল্য সূচক অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দাম বৃদ্ধির হার ধীরগতি দেখাচ্ছে। তবে যদি এই সংঘাতে ৪০ দিন বা তার বেশি সময় লাগতে থাকে এবং সারার দাম συνεχোরভাবে বাড়তেই থাকে, তাহলে কৃষকরা তার জন্য কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।’

২০১৯ সালের শুরু থেকে চলমান এই যুদ্ধ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৩৫তম দিন অতিক্রম করেছে। তোরেরো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘চাষিরা যদি কম সার ব্যবহার করে বা জমিতে কম চাষ করে, কিংবা সার কম লাগে এমন ফসল ফলাতে বাধ্য হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে ফসলের উৎপাদন আবার হ্রাস পাবে। এর ফলে এই বছর এবং পরবর্তী বছর খাদ্য সরবরাহ ও মূল্য প্রভাবিত হবে।’

জাতিসংঘের সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে— ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের মূল্য বাড়ার ফলে পাম অয়েলের দাম এখন ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত করেছে এবং লাখো মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ও শিল্প খাতে ইতোমধ্যে ক্ষতি হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব এখন রণক্ষেত্রের বাইরেও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমানোর কোনও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর হামলার হুমকি আরও জোরদার করেছেন।

অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’