সরকারের ব্যয় সংকোচন ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন উদ্যোগ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

সরকার জ্বালানি সাশ্রয় ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলার জন্য কঠোর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মসূচি সংশোধন, পরিচালন ব্যয় কমানো, এবং বিভিন্ন খাতে খরচ হ্রাসের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, যেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, যা পূর্বে ছিল আরও এক ঘণ্টা দীর্ঘ। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বিকেল ৪টায় বন্ধ হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও অসাময়িক খাবার ব্যবসা এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। এ ছাড়া, সরকারের খরচ কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা ও প্রতিমন্ত্রীদের গাড়ির জন্য মাসিক জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদ্ব্যতীত, সরকারি গাড়ি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। আবাসিক ভবন নির্মাণ ও শোভা বৃদ্ধি ব্যয় যথাক্রমে ২০ ও ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দেবে, যেখানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানো ও যানজট কমাতে ইলেকট্রিক বাস প্রবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন ইলেকট্রিক বাসের আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে, তবে পুরানো বাস আনা যাবে না। সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ খরচ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য কোনও নতুন গাড়ি বা কম্পিউটার কেনাকাটা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসাথে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ থাকবে। সভা ও সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও অর্ধেক কমানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে, সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনসাধারণের কষ্ট লাঘবের জন্য জ্বালানি তে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ ও অন্যান্য সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তারা এই ঋণ ও সুবিধা ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী পান, যেখানে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের বেতন সহ অন্যান্য খাতে মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা ও বছরোহারে ১০ শতাংশ অবচয় সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত। এ সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।