আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে, শাস্তির বিধান যুক্ত

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে এখন আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে। সংশোধন প্রক্রিয়ায় এতে শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হবে, যা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। গত বছর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধের জন্য এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে তখন সরকার বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা পছন্দ নয়, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু এখন সরকার এই অধ্যাদেশটিকে আইন করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

অধ্যাদেশটি প্রথম জারি হয় ২০২৫ সালের ১১ মে, যা সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে অনুমোদন না হলে ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা হারাবে। প্রথম দিন থেকেই বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি। গত বৃহস্পতিবার তারা ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’, যা ২০০৯ সালে সংশোধন করে এই মামলা চালু হয়েছিল। এই আইনে ২০২৪ সালে ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে বলা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কেউ নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। এর ফলে, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সংগঠনের মিছিল, সমাবেশ, দলীয় কার্যালয়, ব্যাংক হিসাব জব্দ, পোস্টার-ব্যানার প্রচার, সংবাদ প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রকাশ ও সংবাদ সম্মেলন—all কিছুতেই বাধা পড়তে পারে। এটি কঠোর শাস্তির পথে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সভা বা সমাবেশের জন্য বিস্তারিত শাস্তির উল্লেখ নেই।

সংসদীয় কমিটি সরকারের মতামত নিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংস্থা যদি এসব কার্যক্রম চালায়, তাহলে সাজার বিধান যোগ করা সম্ভব।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুধু বলা হয়েছে, সাজার বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, আর কী ধরনের শাস্তি তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মুখ থেকে এ বিষয়ে কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইনের সংশোধনকারী ধারা অনুযায়ী প্রযোজ্য সাজার প্রস্তাব উপযুক্ত হবে।

অধ্যাদেশের বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান। তবে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, যা করতেই হবে, জনগণই করবে। তিনি আরও যোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ এর আগে বিভিন্ন বিপর্যয় ও নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করেছে এবং নিষিদ্ধ হওয়া বা কার্যক্রমে বাধা নতুন কিছু নয়।

অধ্যাদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালত গেলে দলের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, বলে তিনি উল্লেখ করেন।