জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার রপ্তানি বন্ধ, বাজারে নতুন চাপের আশঙ্কা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬ ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে পেট্রোল বা গ্যাসোলিন রপ্তানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রুশ সরকার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করে, যেখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে কেবল মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা নিষেধাজ্ঞা এখন সংশোধন করে তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। তবে যেসব দেশের সঙ্গে আন্তঃসরকারি চুক্তি রয়েছে, যেমন মঙ্গোলিয়া, তারা এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আসন্ন কৃষি মৌসুমে দেশের ভেতরে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি সক্ষমতা কমে গেছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগরের উস্ট-লুগা ও প্রিমোর্স্ক বন্দরে হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার ফলে গত মার্চে রপ্তানি সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। বর্তমানে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রপ্তানিতে বাধার কারণে দেশটির তেল মজুত দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত সরবরাহ সামাল দিতে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে রুশ কোম্পানিগুলো। যুদ্ধের আগে রাশিয়া তার মোট গ্যাসোলিন উৎপাদনের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বিশ্ববাজারে সরবরাহ করত। বর্তমানে এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ওপেক প্লাস জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উৎপাদন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হবে। এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ ওপেক প্লাস এপ্রিল মাসে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ও ওপেকের আসন্ন সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়ার দাবি, এই উদ্যোগ মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ। সূত্র : মস্কো টাইমস SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: