ফের ইরানের তেল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির পথ বন্ধ থাকলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে বলে তিনি স্পষ্ট_warning দিয়েছেন। এর জন্য তিনি সোমবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের খারগ দ্বীপ, তেল, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় দ্রুত হামলা চালানো হবে, যদি হরমুজ প্রণালির নাগরিক ব্যবস্থা না খোলা হয়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, যদি কোনো দ্রুত সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও খারগ দ্বীপ লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

তাঁর মতে, এখনও আলোচনা থেকে কিছু অগ্রগতি হলেও, যদি সমঝোতা না হয়, পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইরান এর আগে জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনার বিষয় এখনো হয়নি, তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যেখানে পাকিস্তানের নামও উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানে তার মূল লক্ষ্য হলো তেল সংক্রান্ত সব কিছু নিজেদের কন্ট্রোলে নেওয়া। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্যবিহার জোরদারের জন্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির মতোই ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়ের শক্তিশালী নেতা নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়, এবং এখন ওয়াশিংটন ওই দেশের তেল শিল্পের “অনির্দিষ্টকালীন” নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে।

এমনি সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি তো ভয়াবহ দিকেই এগুচ্ছে, তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এক মাসের মধ্যে তেলপ্রতি দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ পরিস্থিতি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনাকে ইরান “অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক” হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের অবস্থান স্পষ্ট এবং তারা নিজেদের কাঠামো অনুযায়ী এগোচ্ছে।

বাঘেই প্রশ্ন তুলেছেন, আমেরিকায় কতজন মানুষ তাদের কূটনৈতিক দাবিকে গুরুত্ব দেয়, তার উপর। তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান অনেকটাই পরিষ্কার, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক দল বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে।

এছাড়াও, তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো শত্রুতার পরিস্থিতিতে নেই। বরং তাদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ইরান কেবল সেইসব স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে যা থেকে হামলা চালানো হয়েছে।

পর্তুরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, সৌদি আরবসহ প্রায় কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংঘাত এড়াতে কিছু আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে তিনি ধন্যবাদও জানান।