এনবিআর বছরে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর রিটার্ন দাখিলের উদ্যোগ নিবন্ধন করবে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বছরজুড়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর রিটার্ন দাখিলের নতুন একটি পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগকে দেশের কর ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের আধুনিকীকরণ ও দেশের যেন সমৃদ্ধিশালী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর ত্বরান্বিত হয়।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আগামি বছর একটি বড় কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি। পুরো বছর জুড়ে কর রিটার্নের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এই পদ্ধতিতে আমরা চারটি কোয়ার্টারে কর দাখিলের ব্যবস্থা করব। প্রথম কোয়ার্টারে যারা কর দাখিল করবেন, তাদের জন্য থাকা বিশেষ ইনসেন্টিভের ব্যবস্থা থাকবে, যেমন রিবেট বা কর ছাড়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে যারা কর দাখিল করবেন, তারা নিয়মিতভাবে কর দাখিল করবেন। তৃতীয় কোয়ার্টারে যারা করবেন, তারা নিয়মিতের চেয়ে কিছুটা বেশি কর দেবেন। চতুর্থ কোয়ার্টারে যারা কর দাখিল করবে, তাদের কাছেও থাকবে আরো কিছু বাড়তি সুবিধা বা ছাড়। এতে করে করদাতারা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বা কম কর দিতে চাইবেন, কিংবা করের ডিসকাউন্টের জন্য সিদ্ধান্ত নেবেন। একই সিস্টেমটি কোম্পানি বা কর্পোরেট করের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।’’

তিনি আরও জানান, কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সম্পদ কর পুনঃপ্রবর্তন এবং উত্তরাধিকার কর চালুর বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত দেশের সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত নয়। এর ফলে রাজস্ব সংগ্ৰহে উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছি। ফলে আমাদের করদাতাদের জন্য ধোপদুরস্ত তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে। এখন তারা অনলাইনে লগইন করে সেসব তথ্য পেতে পারবেন—যেমন ব্যাংকে জমা টাকা, ক্লোজিং ব্যালেন্স, মুনাফা, কর কাটা টাকা, ব্যাংক চার্জ—এসব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের রিটার্নে চলে আসবে। এটি একদম স্বতঃস্ফূর্ত, অফিসারদের কোনো সরাসরি অ্যাক্সেসের প্রয়োজন পড়ে না।

অতিরিক্তভাবে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্যসম্মেলনের মাধ্যমে সম্পত্তি ও ভাড়া আয় শনাক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া রাজস্ব তথ্যের জটিলতা কমানোর জন্য আইবেস সিস্টেম ও ট্রেজারি রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে এখন তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ভ্যাটের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা দেখানো হয়েছে। বর্তমানে অনুমানিক ২ লাখ কোটি টাকার খুচরা লেনদেনের বিপরীতে নিবন্ধিত ভ্যাটদাতা মাত্র ৮ লাখ, যেখানে প্রকৃত সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। তাই নিবন্ধনের আওতা আরও বৃদ্ধি ও প্রসার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং ৯০ দিন সময় বাড়ানোর জন্য ২০ হাজার ই-আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন কার্যকরী টাস্কফোর্সের সফলতার ফল।