চিরবিদায় নিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৬

বাংলাদেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক

ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১

বছর। তাঁর প্রয়াণের সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই গুণী শিল্পী। গত ২৭ মার্চ

তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত

সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে।

ডালিয়া নওশীনের প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর খালাতো বোন এবং প্রথিতযশা

নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আজ বাদ মাগরিব

গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক

মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি

দুই সন্তানের জননী ছিলেন, যাঁরা বর্তমানে যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে

বসবাস করছেন। ডালিয়া নওশীন ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সুযোগ্য

কন্যা।

বাংলাদেশের সংগীত ও ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন ডালিয়া নওশীন। ১৯৭১ সালে

মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন

সক্রিয় কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর গওয়া উদ্দীপনামূলক গানগুলো সে সময়

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছে এবং মুক্তিকামী মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। সংগীতে

তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা এবং অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০২০

সালে তাঁকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে।

নজরুলসংগীতের শুদ্ধ চর্চা ও প্রসারে ডালিয়া নওশীনের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। তাঁর

মৃত্যুতে কেবল একজন প্রতিভাবান শিল্পীকেই নয়, বরং বাংলাদেশ এক মহান দেশপ্রেমিক ও

সাংস্কৃতিক অভিভাবককে হারাল। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক

সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

বিদায়বেলায় এই গুণী শিল্পীর সুর ও সাহসিকতার স্মৃতি দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন

থাকবে।