বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্রসারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ বাংলাদেশ দ্রুতই জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য উচ্চ সম্ভাবনাময় প্রবৃদ্ধির গন্তব্য হয়ে উঠছে। এখানে তাদের মুনাফা বাড়ছে এবং স্থানীয় বাজারে কার্যক্রম বিস্তারে আগ্রহও জোরালো হচ্ছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাপান বিজনেস ডে’ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ঢাকা অফিসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা জানান, ২০২৫ অর্থবছরের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে থাকা ৫৬.৯ শতাংশ জাপানি কোম্পানি আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়। তিনি বলেন, ‘এই সম্প্রসারণের প্রবণতা ভিয়েতনামের সমপর্যায়ের এবং এর প্রধান কারণ স্থানীয় বাজারের চাহিদা বৃদ্ধি, যা ৬৬.৭ শতাংশ কোম্পানি উল্লেখ করেছে।’ তার মতে, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নতির দিকে রয়েছে। ২০২৫ সালে এখানে কার্যরত ৫০ শতাংশ জাপানি কোম্পানি পরিচালন মুনাফার আশা করছে, যা আগের বছরের ৪১.৯ শতাংশের তুলনায় বেশি। অ-উৎপাদন খাতে সম্প্রসারণের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখানে ৬২.২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এগোতে চায়। উৎপাদন খাতে এই হার ৪৭.৬ শতাংশ। বাংলাদেশের বড় ভোক্তা বাজার ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং গত এক দশকের ৫-৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এই সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেছে। কাতাওকা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হতে পারে এবং যুক্তরাজ্যকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় জাপানি ব্র্যান্ডগুলো এখন সরাসরি স্থানীয় ভোক্তাদের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে, বিশেষ করে ভোক্তামুখী খাতে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে এফএমসিজি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল এবং স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে লায়ন করপোরেশন, আজিনোমোটো, কিউপি, কিকোম্যান, মিতসুবিশি (র্যানকন), হোন্ডা এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বিস্তার করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রধান সুবিধা হিসেবে স্বল্প শ্রম ব্যয়, বড় বাজার, প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং তুলনামূলক কম ভাষাগত বাধার কথা উল্লেখ করা হয়। মানবাধিকার ডিউ ডিলিজেন্স বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে বলে জানানো হয়, যেখানে ৪০.৭ শতাংশ কোম্পানি ইতোমধ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে। অনুষ্ঠানের সকালে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি স্মারক’ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান ইউতারো মোচিদা। পরে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাপরিচালক (রাষ্ট্রদূত) ইজুরু কোবায়াশি অনলাইনে বক্তব্য দেন। এছাড়া বক্তব্য দেন জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা। তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক এখন নতুন এক ধাপে প্রবেশ করেছে, যেখানে উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে নীতিনির্ভর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এলডিসি উত্তরণের পর দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। এলডিসি উত্তরণের ফলে জিএসপি সুবিধা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইপিএ ভবিষ্যতের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করবে। বিকেলের সেশনে জেট্রোর ২০২৫ সালের জরিপের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে এশিয়া ও ওশেনিয়ায় জাপানি কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। পরে বাংলাদেশের ভোক্তা বাজারে জাপানের আগ্রহ নিয়ে উপস্থাপনা দেন জেট্রো ঢাকার প্রতিনিধি তোমোতাকা মিনোউরা এবং সিনিয়র ডিরেক্টর শরিফুল আলম। শেষে একটি প্যানেল আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বিডা, জাপানি ব্যবসায়ী সংগঠন, মিতসুবিশি কর্পোরেশন, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: