ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বংসী ‘বাংকার বাস্টার’ হামলা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে এক বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। সোমবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এই অভিযানে ২০০০ পাউন্ডের অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। এই বিশেষ ধরনের বোমাগুলো মাটির গভীরে থাকা অত্যন্ত মজবুত সুড়ঙ্গ বা সামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম। হামলার ভয়াবহতা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে ইসফাহানের একটি বিশাল গোলাবারুদ ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করতে চান না এবং আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই এর ইতি টানার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর মতে, ইরানের নৌবাহিনী এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করার প্রাথমিক লক্ষ্য ইতিমধ্যেই সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য ‘হরমুজ প্রণালি’ এখনও পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর এই ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞ মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই প্রণালি সচল রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। মার্কিন এই বিমান হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পুরো ইরান। রাজধানী তেহরান, কারাজ এবং আরদাবিলসহ দেশটির বিভিন্ন বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিশেষ করে কারাজ শহরের একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে মার্কিন হামলার ফলে সৃষ্ট ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝেই বিক্ষোভকারীরা ‘সাহস, সাহস!’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। বিক্ষোভ সমাবেশে ইরানি জনতা তাঁদের সামরিক বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করার পাশাপাশি যেকোনো মূল্যে মার্কিন ‘আগ্রাসন’ রুখে দেওয়ার শপথ গ্রহণ করেন। ইরানের ওপর এই আক্রমণের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও। ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ দাবি করেছে যে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ১৯টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য খর্ব করা এবং ইরানের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। এই পাল্টা হামলার ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এদিকে, যুদ্ধের এই ভয়াবহ প্রভাব সরাসরি আঘাত হেনেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। আজ মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৬ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে। আর্থিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানো এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। জ্বালানি সংকটের কারণে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে কৃষি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সার এবং প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ সেমিকন্ডাক্টর চিপস উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্রুত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের দাবি ও ফিরে আসার পরিকল্পনা, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরে তীব্র জনরোষ এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এখন এক নজিরবিহীন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের এই নতুন মাত্রা বিশ্বশান্তির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: