ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ঙ্কর ‘বাংকার বাস্টার’ হামলা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে যখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে মার্কিন বিমানবাহিনী এক বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় মার্কিন সেনারা ২০০০ পাউন্ডের শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ ধরনের বোমা ব্যবহার করেছেন, যা মূলত মাটির গভীরে থাকা সুড়ঙ্গ বা সামরিক ঘাঁটিগুলো খুব সহজে ধ্বংস করতে সক্ষম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই আঘাতের জোরালো প্রকাশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসফাহানের একটি বিশাল গোলাবারুদ ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সূত্র অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করতে চান না, বরং আট থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এর সমাপ্তি চাইছেন। তিনি মনে করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র arsenal-র ধ্বংসের লক্ষ্য ইতিমধ্যেই সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিকার জন্য অপরিহার্য ‘হরমুজ প্রণালি’ এখনো পুরোপুরি খোলা না থাকলেও ট্রাম্পের এই যুদ্ধের ইতি টানের ইঙ্গিত বিশ্ব পর্যালোচকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রণালি চালু রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চাইতে ইউরোপ ও এশিয়ার জন্য অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। এদিকে, এই মার্কিন হামলার জের цахে উঠেছে পুরো ইরানজুড়ে। রাজধানী তেহরান, কারাজ, আরদাবিলসহ বিভিন্ন বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং প্রতিবাদ জানায়। বিশেষ করে, কারাজের এক বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে মার্কিন হামলার কারণে সৃষ্ট ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও তারা ‘সাহস, সাহস!’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ইরানি জনগণ তাদের সামরিক বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করছে এবং বড় ধরনের কোনও মূল্য ছাড়াই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণ প্রতিহত করার শপথ নিচ্ছেন। এই আঘাতের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও তীব্র। ইরাকভিত্তিক সংগঠন ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ দাবি করে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর অন্তত ১৯টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে এই সংগঠন জানায়, তারা এই পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে মার্কিন আধিপত্য কমানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর সামরিক আঘাতের প্রতিশোধ নিতে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে, ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে। আজ মঙ্গলবার থেকে চতুর্থ দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম এখনকার মতো ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানো কোনও ব্যাপার না। এই পরিস্থিতি খাদ্য ও প্রযুক্তি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও সূক্ষ্ম প্রযুক্তি, বিশেষ করে চিপস উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সার্বিক দৃষ্টিতে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একদিকে ট্রাম্পের দ্রুত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের প্রতিজ্ঞা ও তার পরিকল্পনা, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরে তীব্র জনরোষ ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক বিরল ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন। এই সংঘাতের নতুন মাত্রা বিশ্বশান্তির জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: