সংবাদ প্রকাশের জেরে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে সাংবাদিক, মুক্তি চায় পরিবার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মারামারির খবর প্রকাশের জেরে

চাঁদাবাজির মামলায় এক সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী একটি মহল

সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে (৪০) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে। তিনি গত

২৪ দিন ধরে কারাগারে আছেন।

এ ঘটনায় বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে

তাঁর মুক্তি ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরের মা নূরজাহান (৭০), স্ত্রী খোশনাহার

আক্তার (৩৩), মেয়ে জান্নাত আক্তার নিপু (১৪), ছেলে নাঈম হাসান দুর্জয় (১০) ও মো.

হুমায়ুন (৫) এবং স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য, খায়রুল ইসলাম ফকির হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ

গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নয়া

সংবাদ’–এর হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের একমাত্র

উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান কিরণ, যিনি

পোল্যান্ডপ্রবাসী, তাঁর সঙ্গে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে

বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ,

হামলা-পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির।

পরিবারের দাবি, এই সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন আসাদুজ্জামান কিরণ।

পরে গত ২ মার্চ হোসেনপুর থানায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা

করেন। এর তিন দিন পর, ৫ মার্চ, কিরণের বোন আনুরা (৫৩) বাদী হয়ে ভাঙচুর, লুটপাট,

মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেন। সেই মামলায় প্রধান আসামি করা

হয় সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে।

পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় খায়রুল ইসলাম ফকিরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল

সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে প্রতিহিংসাবশত মামলায় জড়ানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলায় আসামি হওয়ার পর খায়রুল ইসলাম ফকির গত ৯ মার্চ

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে

পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন,

দ্রুত তদন্ত করে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও মুক্তি

দেওয়া হোক।