বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের মাঝখানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া দুপক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকটি সম্মেলনের সাইডলাইনে আয়োজিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।

বৈঠকে বাংলাদেশি বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করছে। তিনি সরকারটির নতুন বাণিজ্যনীতি, বাজারের বহুমুখীকরণ ও নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইএফএ) সম্পন্ন হয়েছে এবং কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে এফটিএ ও ইএফএ সংক্রান্ত আলোচনা চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটের অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও বিশাল ভোক্তা বাজারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগ দিতে বাংলাদেশ আগ্রহী, যা উভয় দেশই লাভবান হবে।” তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের ইতিবাচক দিকগুলো উল্লেখ করে বিনিয়োগের আরো বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে, দেশের দীর্ঘ দিন ধরে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতি হিসেবে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং চলমান এফটিএ আলোচনায় অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত বাংলাদেশের এফটিএ এর অগ্রগতি দেখেই বোঝা যায়, এটি একটি কার্যকর মডেল।” বর্তমানে বাণিজ্য পরিমাণের তুলনায় সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন, যেখানে জোড়া দেন জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় উভয় পক্ষ সম্মতিক্রমে মানসম্মত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর জোর দেয়, যাতে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হয়। বৈঠকের শেষে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।