বলিভিয়াকে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে উঠল ইরাক

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘ ৪০ বছরের খরা কাটাল ইরাক। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের

হাইভোল্টেজ ফাইনালে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়াকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে আসন্ন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। এই

ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হলো বিশ্বকাপের ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের

পূর্ণাঙ্গ তালিকা। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ইরাক ফুটবলের সবচেয়ে

মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে অংশ নেওয়ার গৌরব অর্জন করল।

ইরাক এবং বলিভিয়ার মধ্যকার এই প্লে-অফ ফাইনালটি ছিল দুই দলের জন্যই অস্তিত্ব রক্ষার

লড়াই। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বলিভিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত

করে তোলে ইরাক। খেলার ১৮ মিনিটে আলি আলমাহাদির এক দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় তারা, যা

গ্যালারিতে থাকা ইরাকি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসায়। তবে ৩৮ মিনিটে মইসেস পানিয়াগুয়া

বলিভিয়ার পক্ষে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরালে লড়াইয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

বিরতির পর আবারও রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ইরাকের আক্রমণভাগ। ৫৩ মিনিটে দলের ত্রাণকর্তা

হিসেবে আবির্ভূত হন আইমেন হুসেইন। তাঁর নিখুঁত লক্ষ্যভেদে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়

ইরাক। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে তারা।

ইরাকের এই রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছেন দলটির

অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আরনল্ড। তিনি একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে নিজ

দেশের পর ভিন্ন একটি দেশকে বিশ্বকাপে তোলার এক বিরল রেকর্ড গড়লেন। আরনল্ড জানান,

ইরাকি ফুটবলারদের একাগ্রতা এবং দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতাই এই সাফল্য এনে

দিয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়ের পর বাগদাদের রাস্তায় যেভাবে সাধারণ

মানুষ পতাকা হাতে উৎসবে মেতেছিল, সেই দৃশ্য খেলোয়াড়দের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে

বলে তিনি মনে করেন।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসবে

বিশ্বকাপের এই মেগা আসর। ইরাক মূল পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টুর্নামেন্টে

তাদের গ্রুপিং ও সময়সূচি নিশ্চিত হয়ে গেছে। ‘আই’ (Group I) গ্রুপে ইরাকের লড়াই হবে

সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, শক্তিশালী নরওয়ে এবং আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগালের

বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ১৬ জুন ফক্সবোরোতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরাক তাদের

বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর ২২ জুন ফিলাডেলফিয়ায় তারা মোকাবিলা করবে

শক্তিশালী ফ্রান্সকে এবং ২৬ জুন টরোন্টোতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেনেগালের

মুখোমুখি হবে। ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ইরাক এখন কেবল অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ

না থেকে গ্রুপ পর্বে বড় কোনো চমক দেখাতে মুখিয়ে আছে। দেশজুড়ে এখন কেবলই ফুটবল আর

স্বপ্নের জয়গান।