ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি ফিরে এসেছেন: শামা ওবায়েদ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আটকা পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। এটি সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের প্রশ্নের জবাবে বলেন। অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্যায়ে মার্শাল আরমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি বিক্রির বিরোধের জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। এই পরিস্থিতি কিভাবে সমাধান হবে, তা জানতে চান তিনি, পাশাপাশি জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি থাকাকালীন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ভ্ৰমণে ব্যস্ত থাকলেও দেশের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য কি উদ্যোগ নিচ্ছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। স্পিকার তখন তাকে নিয়ম মনে করিয়ে দেন। প্রতিমন্ত্রী জবাবে বলেন, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সংসদে আসার জন্য তিনি সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানান। এরপর বলেন, উনি একজন ব্যারিস্টার, একজন আইনজীবী, তাই তার প্রশ্নের অর্থ এবং প্রাসঙ্গিকতা বোঝা উচিত। জ্বালানি সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তার এই কথায় নাখোশ হন এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বসেন। পরে তিনি বলেন, সরকার দেশের জ্বালানি সরবরাহের জন্য একাধিক উৎস খুঁজে বের করেছে। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তিনি আশ্বাস দেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য উৎস থেকেও আমরা জ্বালানি সংগ্রহের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং আমরা সফল হবো ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমাদের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। দেশের মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় করে রেখেছে। দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান এই পরিস্থিতিতে দুর্ভাগ্যবশত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিরা কখন কোথায় যুদ্ধের মধ্যে পড়বেন, তা অনেক সময় নিজেই বুঝতে পারেন না। এসব জটিল পরিস্থিতিতেও, আইওএম-এর সহায়তায়, তেহরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। SHARES জাতীয় বিষয়: