অর্থমন্ত্রী কর ফাঁকের বিষয়ে বড় শিল্পগ্রুপের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬

বড় শিল্পসংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগের পর্যালোচনা চলছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য কর ফাঁকি শনাক্ত ও তা বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি খরচে বাড়তি চাপের মধ্যে সরকারি ভাগ্যোন্নয়ন ও রাজস্ব সংগ্রহের নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু বড় শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্ত পুনরায় শুরু হয়েছে। এই তদন্তের জন্য আন্তঃসরকারি পর্যায়েও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি একটি একক বিষয় নয়, বরং বিভিন্ন বিষয় সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। সবকিছুই এখন পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।’‘৷ ২০২৪ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এনবিআর বিভিন্ন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান—বেক্সিমকো, সামিট, এস আলম সহ—এর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি তদন্ত শুরু করে। কিছু ক্ষেত্রে বকেয়া কর আদায়ও করা হয়েছে।

নতুন সরকারের জন্য বাজেট প্রস্তুতির চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের যে অর্থনৈতিক অবস্থা তা খুব সুখকর নয়। এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতি উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তার ভাষায়, “অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে গেছে, যা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে আমাদের। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তিনটি বড় সমস্যার সমন্বয়—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও জ্বালানি খরচ।

এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণের জন্য রিসোর্স মোবিলাইজেশন এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “এই রিসোর্স সংগ্রহের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সম্ভাব্য এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বিষয়টি বর্তমানে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) বিবেচনা চলছে, যাতে অনুমোদন পেলে তা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

অর্থনীতির ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ওপর জোড় দেন তিনি। তিনি বলেন, “সরকার সহজভাবে টাকা ছাপতে চায় না, বরং দেশের ভিতরে-বাইরে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও উপস্থিতি জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর জন্য নীতির ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। দেশের বহু নীতি প্রণয়নের পর তা দ্রুত পরিবর্তন হয়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়। তাই আগামী দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন নীতি পর্যায়ক্রমে চালু রাখতে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে যেন ব্যবসায়ীদের জন্য কর্মপরিবেশ আরও স্থিতিশীল হয়।

সঙ্গে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগুলো যেন স্থিতিশীল থাকে, যাতে বিনিয়োগকারীরা নির্ভয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন।”

বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।