ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাজি ট্রাম্প

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ Ending করার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের কারণে মনে করা হচ্ছে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

প্রশাসন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প ও তার উপদেস্টারা মনে করেন, হরমুজ প্রণালিকে জোরপূর্বক খোলা হলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হবে। তাদের লক্ষ্য এখন এই সংঘাতকে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে সমাধান করা। এর জন্য ট্রাম্প বর্তমান সামরিক অভিযানকে সীমিত রাখতে চান, যাতে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা হয়।

ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামরিক কার্যক্রম কমিয়ে আনতে হবে এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে তেহরানকে আন্তর্জাতিক তেল ও বাণিজ্য চলাচল স্বাভাবিক করতে বাধ্য করতে হবে। যদি এই পথ না দেখা হয়, তাহলে ইউরোপ এবং উপসাগরীয় মিত্রদের মাধ্যমে প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

অবশ্য এই অবস্থানের জন্য সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক সুজান ম্যালোনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালি না খুলে সামরিক অভিযান শেষ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তার মতে, জ্বালানি বাজারের গ্লোবাল প্রভাবের কারণে এই এস্তিতিৎ যথাযথ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ইতিমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন দেশ চাপে পড়েছে, এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

গত এক মাস ধরে ট্রাম্প এই সংকটের সমাধানে দ্বিধাবিভক্ত মন্তব্য করে আসছেন। কখনো তিনি বেসামরিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দেন, আবার কখনো বলতে শোনা গেছে, এই প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়—এটি অন্য দেশের সমস্যা।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে, তবে তা এখনই তাদের মূল সামরিক লক্ষ্য নয়।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্যগুলো সম্পন্ন হবে। এর পরই ইরান নিজে সিদ্ধান্ত নেবে হরমুজের বিষয়ে, বা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জোটগুলো সিদ্ধান্ত নেবে।

গভীর এই অচলাবস্থায়, যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েনের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। নতুন সেনা পাঠানো, বিমানবাহী রণতরী ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবী করছে, হরমুজ প্রণালী এশিয়া ও ইউরোপের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওয়াশিংটন তাদের মিত্র দেশের (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ইত্যাদি) এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪০টি দেশে এই প্রণালি নিরাপদে চলাচলের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

অতএব, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, শক্তিশালী সামরিক বাধা ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনা ও সমঝোতার দিকে নিয়ে আসা যাবে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত না খুললে বিশ্ব অর্থনীতি ও খাদ্য সরবরাহের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলবে।