ইরানের অনুমোদনে হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের পরিকল্পনা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আদায়ের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি। দেশের স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূত্রের নিশ্চিতকরে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়ার একটি কঠোর উদ্যোগ। এই পরিকল্পনার আওতায় অন্যান্য দেশ যারা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে, তাদেরকেও এই নৌপথ ব্যবহার করতে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এএফপি জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হরমুজ প্রণালিতে নতুন টোল ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে ওমানের সহযোগিতায় এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়। বিশ্বের তেল বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশেরও বেশি পরিবহনের কেন্দ্রবিন্দু। পুরো প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ চলাচল করে, কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিটে একটি জাহাজ এই পথ ধরে এগিয়ে যায়। আবার, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে ইরানের হুমকি ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছে বিশ্বজনমত। ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে বিশ্ববাজারে দামের বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মার্কো রুবিও সতর্ক করে দিয়েছেন, যত শীঘ্র সম্ভব এই স্বার্থসংশ্লিষ্ট নৌপথ উন্মুক্ত করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে, যুদ্ধ বা অন্য কোন পরিস্থিতিতেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে অবশ্যই সেটি খোলা হবে।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধান চান এবং বর্তমানে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে গোপন আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শীঘ্রই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।’ এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র ও সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে আভাস দিয়েছেন রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দিতে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও ওয়াশিংটনের দৃঢ় অবস্থান বজায় রয়েছে। রুবিও অভিযোগ করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার গভীর পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা একদম সমস্যাজনক। দেশের সম্পদ সন্ত্রাসবাদে ব্যয় হচ্ছে, সাধারণ মানুষের পরিবর্তে হিজবুল্লাহ, হামাস ও শিয়া মিলিশিয়াদের পেছনে যাচ্ছে।’ এর পাশাপাশি, তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের সার্বভৌমত্বের নামে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে তেহরানকে কঠোর মূল্য দিতে হবে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ইরানের সামরিক ক্ষমতা ধ্বংসের প্রয়োজন রয়েছে।’ এছাড়াও, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছে, ইরানের স্বর্ণযৌগ্য ইউরেনিয়াম জব্দের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর। এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই এক মাসের মধ্যে সংঘটে প্রায় ১৯৩৭ ইরানি ও ২০ ইসরায়েলি নিহতের পাশাপাশি ১৩ মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী চলমান এই সংকটের মধ্য দিয়ে দেখা গেছে, এই ঐকমত্যের অবনতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের উপর বিশদ বিচ্যুতি comingo সর্বোপরি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়তে পারে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: