ভোলায় বিসিক অভিযানে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, দু’টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬ ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে অবৈধভাবে মজুদ করা প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযানের সময় শ্রমিকরা হট্টগোল সৃষ্টি করে, সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেয়, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বিসিকের মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিল ও তৃষ্ণা বেকারিতে তল্লাশি চালানো হয়। ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক জামাল খান অবৈধভাবে ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন। পরে কারখানার ভেতরে পানির ট্যাংক ও ড্রামে রাখা হয় মোট ৫ হাজার ৯৭৪ লিটার ডিজেল, যা জব্দ করা হয়। তিনি জ্বালানি তেল মজুতের জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, ফলে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। উল্লেখ্য, একই অভিযানে বিসিক এলাকার তৃষ্ণা বেকারির থেকে প্রায় ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জুয়েলকে অবৈধ মজুদকাজের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে থাকা খান ফ্লাওয়ার মিলের কর্মীরা হট্টগোল শুরু করে, আবাসিক ও শিল্প এলাকায় সড়কে বালুর বস্তা ও ইট ফেলেছে। অভিযোগের বিষয় হলো, অভিযানের সময় মালিক জামাল খান ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। আরও জানা যায়, অভিযানের সময় ছবির ধরা যখন চলছিল, তখন সাংবাদিক উৎপল দেবনাথসহ অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে চেষ্টা করেন ও হুমকি প্রদান করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল খান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এসব জ্বালানি মজুদের জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। অচিরেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।” অপরদিকে, অভিযুক্ত জামাল খান দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ইলিশা এগ্রোর নামে তেল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এই সংক্রান্ত হিসাব তিনি প্রশাসনকে দিয়েছেন। তবে, তার নামে কোনো লাইসেন্স বা লিখিত অনুমোদন নেই। উল্লেখ্য, অভিযানে জব্দকৃত ডিজেল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্যদিকে, এই ঘটনায় গোপন সংবাদ ও ছবি ধারণের সময় সাংবাদিক উৎপল দেবনাথের হুমকির অভিযোগে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। SHARES সারাদেশ বিষয়: