মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে করাচি বন্দরে পণ্য খালাসে রেকর্ড কার্যক্রম

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬

বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও বন্দরগুলোতে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লেও পাকিস্তানের করাচি বন্দরের গুরুত্ব আবারও বেড়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উপসর্গের কারণে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠায় বিশ্বব্যাপী শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করে করাচি বন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। এই কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দরে পণ্য খালাসের নতুন নজির সৃষ্টি হয়েছে। এ তথ্যটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘নিক্কেই এশিয়া’ জানিয়েছে।

পাকিস্তানের সমুদ্রবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে পুরো বছরজুড়ে করাচি বন্দরে প্রায় ৮ হাজার ৩০০টি ট্রান্সশিপমেন্ট কনটেইনার পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র ২৪ দিনেই এই সংখ্যা ৮ হাজার ৩১৩ এ পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, বড় বন্দরগুলোতে জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখন করাচির দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করাচি বন্দরের এই চাহিদা বাড়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের জলপথ বন্ধ করে দেওয়া, এবং দুবাইয়ের জেবেল আলীর মতো বড় বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এই রুট পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাকিস্তান সরকার ১৮ মার্চ থেকে বন্দরের চার্জে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ঘোষণা করেছে, যা শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য এক বড় প্রলোভন হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, আফগান সীমান্ত বন্ধ থাকায় করাচি বন্দরের পর্যাপ্ত স্থান ও সক্ষমতা তৈরি হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপারেটরদের উপস্থিতিও দ্রুত কার্যক্রম চালাতে সহায়ক হচ্ছে। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অস্থায়ী সুবিধাগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী বানানোর জন্য দেশের নীতিমালা আরও স্থিতিশীল ও দীৰ্ঘমেয়াদি হতে হবে। এতে রাজস্ব বাড়বে এবং দেশের বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থান আরও শক্তিশালী হবে।

তবে, কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবিষ্যতে করাচি বন্দর কি সত্যিই দুবাইয়ের জেবেল আলীর পূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারবে, এখনও তা স্পষ্ট নয় এবং এটি এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।