পিটিআই নেতা আলিয়া হামজা মালিক গ্রেফতার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২৬

পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ

(পিটিআই)-এর ওপর প্রশাসনের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার

লাহোর থেকে পিটিআইয়ের পাঞ্জাব প্রদেশের প্রধান সংগঠক আলিয়া হামজা মালিককে গ্রেফতার

করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারের পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাঁকে একটি

অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর বর্তমান অবস্থান বা তাঁকে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে সে

বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

আলিয়া হামজা মালিক পিটিআইয়ের রাজনীতির ময়দানে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নারী নেত্রী

এবং পাঞ্জাব প্রদেশে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু আইনি জটিলতায় জর্জরিত। এর আগে বিভিন্ন

মামলায় তাঁকে ১০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক

অঙ্গনে এবং মানবাধিকার মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৯

মে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত

থাকার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

পিটিআইয়ের এই প্রভাবশালী নেত্রীর গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে লাহোরসহ পুরো পাকিস্তানে

চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট

অভিযোগ ও দণ্ডাদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ৯ মে-র সেই সহিংস ঘটনার পর থেকে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআইয়ের

অসংখ্য শীর্ষ ও স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনেককেই ইতোমধ্যে কারাবরণ করতে হয়েছে অথবা তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলিয়া হামজা মালিকের মতো একজন সক্রিয় সংগঠককে গ্রেফতার

করার ফলে পাঞ্জাব প্রদেশে পিটিআইয়ের সাংগঠনিক শক্তি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে

পারে। বিশেষ করে দলের প্রধান ইমরান খানের কারাবাসের মধ্যে যখন দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর

চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের ধরপাকড় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও

অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় পিটিআই সমর্থকরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে

যে, দেশের আইন ও শান্তি বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত

থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আলিয়া হামজাকে ঠিক কোন অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে এবং তাঁর

আইনজীবীরা পরবর্তীকালে কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।