হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি ইরানের Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২৬ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এবার আরও একটি কৌশলগত জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ জারির কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তেহরানের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আইআরজিসি-র একজন উচ্চপদস্থ সেনা কমান্ডার ফার্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের কোনো দ্বীপপুঞ্জ বা মূল ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করে, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নিজেদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে, তবে ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সেক্ষেত্রে আইআরজিসি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি নতুন ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলো। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই অত্যন্ত সংকীর্ণ জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। ফলে এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ইরানের সীমানা থেকে দূরে হলেও এই প্রণালিতে অবরোধ জারির সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রধান কারণ হলো ইয়েমেনের ওই অঞ্চলটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান সমর্থিত ও মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। আইআরজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করার বিষয়ে ইতিমধ্যে হুথি নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা ইরানকে পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হুথিদের হাতে থাকা অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সংকীর্ণ পথে যেকোনো জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। পরিশেষে বলা যায়, ইরানের এই দ্বিমুখী অবরোধের হুমকি—একদিকে হরমুজ এবং অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব—বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে চাইছে। যদি এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ একই সঙ্গে অবরুদ্ধ হয়, তবে তা বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: