ইরান যুদ্ধ: কী আছে ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাবে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড

ট্রাম্প। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে

তেহরানের নীতি-নির্ধারকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন

সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। যদিও এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো জনসমক্ষে

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত

দিয়ে এই শান্তি চুক্তির মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে আসছে। এই

উদ্যোগটি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের

উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই ১৫ দফার প্রস্তাবের প্রধান দুটি স্তম্ভ হলো

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিতে

পুনরায় অবাধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। ওয়াশিংটন চায় তেহরান যেন তাদের

পরমাণু সক্ষমতাকে কেবল শান্তিপূর্ণ কাজেই সীমাবদ্ধ রাখে এবং এর ওপর পূর্ণ তদারকি

বজায় রাখার সুযোগ দেয়। একই সাথে বিশ্ববাজারের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত

সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি থেকে সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি

ট্রাম্পের এই শান্তি ফর্মুলার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।

চুক্তির অভ্যন্তরীণ শর্তাবলি সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি

সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। তারা দাবি করেছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইরানকে তাদের

ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ মানের প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম

আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের

ওপর থেকে দীর্ঘদিনের যাবতীয় কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার

প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থাৎ ইরান যদি তাদের পরমাণু সক্ষমতা ত্যাগ করে এবং হরমুজ

প্রণালি উন্মুক্ত করে দেয়, তবে তার পরিবর্তে দেশটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ফেরার পূর্ণ

সুযোগ পাবে।

এই শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শর্ত অনুযায়ী, ইরান যদি এই ১৫ দফার প্রতি প্রাথমিক সম্মতি

জ্ঞাপন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এক মাসের জন্য পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

করবে। এই বিরতিকালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি বৈঠকে বসে

প্রতিটি দফার বিস্তারিত কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। এটি

মূলত দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠার একটি কৌশলগত সময় হিসেবে ব্যবহারের

পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে

এখনো এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। এএফপির পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউস এবং

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তাই এই ইস্যুতে

আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের

এই জটিল পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব তেহরানের জন্য একই সাথে বড় সুযোগ এবং বড়

চ্যালেঞ্জ। ইরান এই শর্তগুলো মেনে নিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ও অর্থনীতি রক্ষা করবে,

নাকি নতুন কোনো সংঘাতের পথে হাঁটবে, তা এখন পুরো বিশ্বের কাছে এক বড় কৌতূহলের বিষয়

হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এই ১৫ দফার প্রস্তাবটি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের

মানচিত্র ও ভূ-রাজনীতি পরিবর্তনের প্রধান অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে।