বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আমজাদ হোসেন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ ছাপিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) শুরু হয়েছে

নতুন নাটকীয়তা ও প্রশাসনিক অস্থিরতা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিসিবির পরিচালক পদ

থেকে পদত্যাগ করেছেন আমজাদ হোসেন। সোমবার (২৩ মার্চ) বিসিবি সভাপতি বরাবর একটি

আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়ে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ক্রিকেট বোর্ডের একজন

উচ্চপদস্থ পরিচালক সংবাদমাধ্যমকে আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সরাসরি

পরিচালকের পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

উল্লেখ্য যে, এই পদত্যাগের ঠিক একদিন আগেই বিসিবির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতে

বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় আমজাদ হোসেনকে বিসিবির মিডিয়া

কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোখছেদুল কামাল বাবুকে। মোখছেদুল কামাল বাবু

এর আগে এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বর্তমানে তিনি

বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বেও নিয়োজিত রয়েছেন। আমজাদ হোসেন গত বছরের অক্টোবর

মাসে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ঠিক কী

কারণে তাঁকে হুট করে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো

সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবির অধিকাংশ কর্মকর্তা ঈদের ছুটিতে

রয়েছেন। এমন নিরিবিলি সময়ে আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের খবরটি ক্রীড়াঙ্গনে বেশ

চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি কেবল ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ

করলেও, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এই পদত্যাগের

পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

বিসিবির অভ্যন্তরীণ এই রদবদল এবং একজন প্রভাবশালী পরিচালকের বিদায় বোর্ডের নীতি

নির্ধারণী পর্যায়ে নতুন কোনো মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে

ব্যাপক গুঞ্জন। আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের ফলে শূন্য হওয়া এই পরিচালক পদে ভবিষ্যতে

কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে কিংবা বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামোতে আরও কোনো বড় পরিবর্তন আসবে

কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে ঈদের এই বিশেষ সময়ে বিসিবির অন্দরে ঘটে

যাওয়া এই ঘটনাপ্রবাহ দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক ভবিষ্যতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।