জুলাই দায়মুক্তির অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত: সালাহউদ্দিন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২৬ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছে। প্রথম দিনে অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে জুলাই জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সংবিধান পরিপন্থী কোনো অধ্যাদেশ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম। কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা ও মোনাজাত করা হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরমধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’। এই অধ্যাদেশের বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত সবাই একমত প্রকাশ করেন। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট আকারে তা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এক মিটিংয়ে ফয়সালা করা সম্ভব না। তাই আরো কয়েক দফা বৈঠকে বসতে হবে। তবে অনেক বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছেন। আগামীতে কোন অধ্যাদেশ গ্রহণ করা যায়, কোনটা সংশোধন করে নেওয়া যায়, আর কোনটার ক্ষেত্রে আরো পরিবর্তন লাগবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হবে। অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। আবার কিছু অধ্যাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যাচাই-বাছাইয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ২ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করব। সংবিধান এবং জনআকাঙ্ক্ষা দুইটাকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান অবশ্যই সবার থেকে এগিয়ে থাকে। তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত এখনই জানানো যাবে না। রিপোর্ট যখন প্রকাশ হবে তখন বলা যাবে। আমরা মধ্যপথে আছি, এগোচ্ছি। বিশেষ কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাদেশ সরাসরি আইনে পরিণত হয় না, উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কমিটি তাদের মতামত ও সুপারিশ সংসদে পেশ করবে, পরে সংসদই চূড়ান্তভাবে ঠিক করবে কোন অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হবে। সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। পরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিনের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে এরপর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে ওই অধ্যাদেশ তুলতে হয়। সংসদ গ্রহণ না করলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়। SHARES জাতীয় বিষয়: