আকরিক লোহার দাম টন প্রতি ১০০ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৬ চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম প্রতি টনে প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ খনি কোম্পানিগুলোর একটি ভেল। ব্রাজিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব পড়ছে। একই সময়ে প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা ধীরে কমতে থাকায় দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থির থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গুস্তাভো পিমেন্টা জানান, খনি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মজুদ ফুরিয়ে আসছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির বাণিজ্যিক ও উন্নয়নবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদ কমে যাওয়ার কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয়, যা এখন কার্যত শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতায় নিজেদের কৌশলেও পরিবর্তন আনছে ভেল। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদনের বড় অংশই ছিল উন্নত মানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহৃত হয়। চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত শিল্পের সম্প্রসারণ দ্রুত ঘটছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছর বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে কোম্পানিটি। SHARES অর্থনীতি বিষয়: