দেশ ও জনগণের স্বার্থে মহান সংসদকে কার্যকর করে তোলার দৃঢ় প্রত্যাশা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে মহান সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি সকলের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনচেতা জনগণের দৃষ্টিতে এই সংসদ হতে চলেছে জনগণের আশার কেন্দ্রবিন্দু। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালেই সংসদে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়, যেখানে তিনি তার ভাষণে এই ভাবনায় গভীর উদ্বেগ ও আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুরি করা হয়েছিল। জনগণ দুর্বল ও অসহায় করে রাখা হয়েছিল, আবার সংসদকেও অবৈধ ও নিষ্প্রভ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজকের এই সংসদ তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে সংসদ সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত, যা দেশের মানুষের কাছে সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্ব করে। এটি বাংলাদেশের সত্যিকারের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।

বলেন, বিরোধিতা মানে শুধুমাত্র বিরোধিতা নয়, বরং যুক্তি ও ভাবনায় বিতর্ক করে সংসদকে আরও জীবন্ত ও শক্তিশালী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য লড়াই করে যারা মুক্তি পেয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন, ত্যাগ করেছেন, তাদের স্মরণ করতেই হবে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও ক্ষতি স্বীকার করেছেন, তাঁদের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। বিশেষ করে, যারা নিপীড়নের শিকার হয়ে জীবন হারিয়েছেন বা সংগ্রামে আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাদের চেতনায় দেশের ভবিষ্যৎ সুসজ্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, গৃহিণী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী যাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের দমনে আন্দোলন করবে সেই প্রজন্মের জন্য ইতিহাসে সম্মানিত থাকবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেটি প্রহসনে পরিণত হয়। আজকে আবার সেই গণতান্ত্রিক ধারাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সবাই এগিয়ে এসেছেন। তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরো দেশ এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি জনগণের স্বার্থ, ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়। তিনি নিজেকে বিএনপির একটি সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, তার নেতৃত্বে দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর ও সচেতন করে তোলা। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী ও কার্যকরী করে তুলতে হবে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে যারা স্বৈরাচার ভেঙে দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। সরকারি দলের প্রতিনিধি, স্পিকার ও দেপুটি স্পিকারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনবিরোধীর কারণে কেউ কেউ উপস্থিত থাকতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন চলা ফ্যাসিবাদী শাসন শেষে, ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নতুন পরিস্থিতিতে সংসদের কাজ শুরু করছেন। যুগের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বিরল নয়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু তখনকার সংসদে প্রথম অধিবেশন শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, পদে থাকা সব নেতাকর্মীদের জন্য এই দিনটি গৌরবময়। শেষে, তিনি সংসদের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্পিকারের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।