প্রত্যাশার চেয়ে পিছিয়ে ঈদবাজার: কেনাকাটায় নেই আগের সেই চিরচেনা উত্তাপ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬ পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে এলেও এবং রমজানের তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে এখনো আশানুরূপ কেনাকাটার জোয়ার দেখা যাচ্ছে না। দেশের প্রায় ৫ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস এবং কয়েক শ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এই উৎসব মৌসুমের ওপর বিনিয়োগ ও লাভের বড় অংশ নির্ভর করলেও এবার বাজারের চিত্র বেশ বৈচিত্র্যময় ও খানিকটা হতাশাজনক। টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই কিংবা রঙ বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সংগ্রহে নতুনত্ব থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো কেনাকাটার সেই ত্বরিত ঝোঁক বা ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন সরকার গঠনের পর বাজারের স্থবিরতা কাটবে, কিন্তু বাস্তবে বেচাবিক্রিতে ভালো-মন্দের এক মিশ্র প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের গাণিতিক প্রত্যাশা ছিল অন্তত গত বছরের তুলনায় এবার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি বাড়বে। সেই আশা থেকেই রাজধানীর নামী দামী শপিং মল থেকে শুরু করে অলিগলির আউটলেটগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতা থাকলেও তাঁরা অত্যন্ত ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে কেনাকাটা করছেন। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু করে মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড বা আজিজ মার্কেটের মতো এলাকাগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা জামাকাপড় দেখছেন এবং দামের তুলনায় মানের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। আগের বছরগুলোর মতো মাসের শেষ দিকে যে পরিমাণ হুড়োহুড়ি থাকে, তা এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। অনেকেই পোশাকের ধরন আর বর্তমানের গুমোট আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে হালকা সুতি কাপড়ের পোশাক বেশি পছন্দ করছেন। এবার ঈদের পোশাক সংগ্রহে ফ্যাশন হাউসগুলো আধুনিক আর দেশি ঐতিহ্যের ফিউশনকে প্রাধান্য দিয়েছে। তবে নজরকাড়া সংগ্রহের বিপরীতে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠিত আউটলেট থেকে জানা গেছে যে সেখানকার বেচাবিক্রি এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের মতে বাজার পরিস্থিতি অনেকটা অনিশ্চিত। অথচ এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে। যেমন, শীর্ষস্থানীয় কিছু ফ্যাশন হাউসের কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী তাঁদের বিক্রি গত বছরের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। রঙের আধিক্য এবং পোশাকের বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহক এখনও ব্র্যান্ড শপে আস্থা রাখছেন। কাপড়ের ধরন হিসেবে বরাবরের মতোই মেয়েদের থ্রি-পিস ও টু-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সিল্ক, খাদি কিংবা বয়েল কাপড়ের মাঝে এবার সুতি পোশাকই সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে সংগ্রহে বড় পরিবর্তন না আসলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি আর পাজামার আবেদন অম্লান রয়েছে। তবে পাইকারি বাজারের মন্থর গতির রেশ সরাসরি খুচরা বাজার ও শোরুমগুলোতে প্রভাব ফেলেছে। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার বাজারের চড়া মূল্যের কথা চিন্তা করে কেনাকাটায় সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং তুলনামূলক বাজেটের ভেতর ভালো কিছু পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ব্যবসায়ী বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ সরাসরি ফ্যাশন সেক্টরের ওপর প্রভাব ফেলছে। ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো গত বছরের তুলনায় কিছু বেশি বিক্রি করলেও সামগ্রিকভাবে বাজারের প্রকৃত চাঙ্গা ভাব ফিরে পেতে তারা আরও কয়েক দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। শেষ মুহূর্তের কয়েক দিনে যদি সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় না জমে, তবে উৎসবনির্ভর বিশাল এই বাজার ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কাও থেকে যায়। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থার সংকটের ছাপ পড়েছে, তার উত্তরণ কেবল বাজারের আসন্ন কয়েক দিনের চাঞ্চল্যেই নিহিত রয়েছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: