ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১০ দিনে ১৪০ মার্কিন সেনা আহত

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংগতিনাশক সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১০

দিনের টানা লড়াইয়ে অন্তত ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন

আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল মঙ্গলবার এক

ব্রিফিংয়ে জানান, আহত সেনাসদস্যদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত

আশঙ্কাজনক। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রণক্ষেত্রে এই হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে। গুরুতর আহতদের

বর্তমানে বিশেষায়িত ব্যবস্থায় উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হলেও বিস্ফোরণের তীব্রতার

কারণে অনেকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মস্তিষ্কে বড় ধরণের আঘাত পাওয়ার

আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান অত্যন্ত মারমুখী অবস্থানে রয়েছে এবং তারা কেবল মার্কিন

সামরিক ঘাঁটি নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তেলের স্থাপনা,

বিমানবন্দর, হোটেল এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা অব্যাহত

রেখেছে। ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এসব হামলায় কুয়েত ও সৌদি আরবে ইতিমধেই সাতজন

মার্কিন সেনার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে

অপরের কৌশলগত অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে

ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক

রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরণের অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর বড় ধরণের হামলা ও হতাহত হওয়ার খবর মিললেও

পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরানের সক্ষমতাকে খাটো করেই দেখছেন। মার্কিন

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন মন্তব্য করেছেন যে ইরান হয়তো

লড়ছে, কিন্তু তারা আদতে মার্কিনদের কল্পনার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্র নয়। তবে

মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির উত্তাপ কমাতে কোনো পক্ষই ছাড় দিচ্ছে না। মার্কিন

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে ইরানে তাঁদের

হামলার তীব্রতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকেও কোনো প্রকার

নমনীয়তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে না; দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যেকোনো ধরণের

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী

লারিজানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন যে তাঁরা ট্রাম্পের কোনো ধরণের

হুমকিতে পিছু হটবেন না।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ

প্রণালি’ নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তায় ইরানকে চরম

সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রণালিতে পেতে রাখা প্রতিটি মাইন দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

এই পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে এমন নজিরবিহীন সামরিক ধ্বংসলীলার শিকার হতে

হবে যা ইতিপূর্বে কেউ প্রত্যক্ষ করেনি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান

পুরো বিশ্বকে এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তা ও প্রলয়ংকরী যুদ্ধের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের লাগাম টেনে ধরতে দ্রুত আলোচনার

পরিবেশ তৈরি না হলে পরিস্থিতির আরও শোচনীয় রূপ নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।