হরমুজ প্রণালী সংকটে তেল পরিবহনে সৌদির বিকল্প তেলপথ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়ায় তেল পরিবহনে বিকল্প ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি সচল রাখতে দেশটি তাদের পুরোনো ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনকে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহারের পথে এগোচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এ পরিস্থিতিতে চার দশক আগে নির্মিত সৌদি আরবের বিশাল ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন এখন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পাইপলাইনটির দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে পৌঁছাবে। আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মধ্যে প্রায় ৭৫০ মাইল দীর্ঘ এই পাইপলাইন এখন উপসাগরীয় তেল রপ্তানির বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবকাঠামো ব্যবহার করা সৌদি আরবের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে মার্কিন প্রশাসনের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় ও অর্থনৈতিক স্বস্তি তৈরি হতে পারে। রাইস ইউনিভার্সিটির জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জিম ক্রেইন বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি যে সংকটে পড়েছে, সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাইপলাইনটি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। তবে এটি কেবল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সাময়িক সমাধান, দীর্ঘমেয়াদে সংকট পুরোপুরি কাটাবে না। তবে এ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গত বছর সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৬৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত এবং ১৪ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। কিন্তু ইয়ানবু বন্দরের সক্ষমতা দিনে প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানির মধ্যে সীমিত। বিশ্ববাজারে এখন কেবল কাঁচা তেলের ঘাটতি নয়, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির সংকটও বাড়ছে। ট্রান্সভার্সাল কনসাল্টিংয়ের বিশ্লেষক এলিন ওয়াল্ড মনে করেন, পাইপলাইনটি যদি পুরোপুরি অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যস্ত থাকে, তবে প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে ইউরোপের মতো অঞ্চল বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। এদিকে লোহিত সাগরপথেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে তারা ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। সেন্টার ফর দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের বিশেষজ্ঞ গ্রেগ প্রিডি সতর্ক করে বলেন, ‘ইয়ানবু দিয়ে এশিয়ায় যাওয়া সব তেলবাহী জাহাজকেই বাব আল-মান্দেব প্রণালী পাড়ি দিতে হয়, যা হুতিদের ড্রোন হামলার নাগালে রয়েছে।‘ তিনি আরও বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত সৌদি অবকাঠামোয় এমনভাবে হামলা করছে যাতে স্থায়ী ক্ষতি না হয়। কিন্তু হুতিরা যদি যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে বারবার ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকেই প্রতিফলিত করছে। ইউরোপ এখন রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। নতুন সংকটে সেই সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: