টুর্নামেন্ট সেরার মুকুট সাঞ্জু স্যামসনের মাথায়

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের জমকালো ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নতুন ইতিহাস গড়েছে ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি

স্টেডিয়ামে গত রবিবার কিউইদের ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম দল হিসেবে

টানা দুইবার এবং সব মিলিয়ে রেকর্ড তৃতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল

ভারত। মাঠের এই বিশাল সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন

ভারতীয় ক্রিকেটাররা, যেখানে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা জিতে নিয়েছেন

হার্ডহিটার ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট হাতে শাসন করা সাঞ্জু স্যামসন ভারতের শিরোপা জয়ে

অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এবারের আসরে মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক

রেটে তিনি ৩২১ রান সংগ্রহ করেন, যা তাকে প্রতিযোগিতার তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে

পরিণত করে। বিপদের সময়ে দলকে টেনে তোলা এবং শুরু থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার

পুরস্কার হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’-এর

সম্মানজনক ট্রফি। স্যামসনের এমন মারমুখী এবং ধারাবাহিক ব্যাটিং ভারতীয় মিডল

অর্ডারকে অনন্য এক উচ্চতা দান করেছে।

ফাইনাল ম্যাচে ভারতের জয় সুনিশ্চিত করার পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন পেসার জাসপ্রিত

বুমরাহ। নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫

রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি মূল্যবান উইকেট। তাঁর এমন স্পেল কেবল ফাইনালের সেরাই

করেনি বরং পুরো টুর্নামেন্টের চিত্রপট বদলে দিয়েছে। পুরো আসরে বুমরাহ এবং স্পিনার

বরুণ চক্রবর্তী—উভয়ই ১৪টি করে উইকেট শিকার করে যৌথভাবে আসরের সফলতম বোলার হিসেবে

নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত যখন ২৫৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য

দাঁড় করায়, তখনই ম্যাচের ফল অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া

করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ভারতের শাণিত বোলিং আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট

হারাতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানে অলআউট হয়। ৯৬ রানের এই বড় জয়ের ফলে ভারত

তাদের ২০২৪ সালের মুকুট সাফল্যের সাথে রক্ষা করল। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের

প্রথম আসর জয়ের পর ১৭ বছর বিরতি দিয়ে গতবার ট্রফি জেতে ভারত। এবার টানা দুই আসরে

বিশ্বজয়ের মাধ্যমে নীল বাহিনী বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান

পুনরায় জানান দিল।