মেসির বিস্ময়কর বেতন ও ১৪৫ কোটি ডলারের ইন্টার মায়ামি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২৬

আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির হাত ধরে আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক উচ্চতায়

পৌঁছেছে ইন্টার মায়ামি। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম স্পোর্তিকোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামি এখন মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সবচেয়ে মূল্যবান ক্লাবে পরিণত

হয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। দলের এমন

অভাবনীয় উন্নতির মধ্যেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এল মেসির প্রকৃত আয়ের হিসাব।

মায়ামির সহ-মালিক জর্জে মাস নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁদের অধিনায়ককে সন্তুষ্ট রাখতে

এবং বিশ্বমানের ফুটবল নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে ক্লাবটি।

ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জর্জে মাস জানিয়েছেন, লিওনেল মেসি ক্লাব

থেকে বার্ষিক ৭ থেকে ৮ কোটি মার্কিন ডলার বেতন পেয়ে থাকেন। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই

অংকের মধ্যেই ক্লাবের মালিকানায় মেসির নির্ধারিত শেয়ারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত

রয়েছে। জর্জে মাস দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, খেলোয়াড়রা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে তাঁদের জন্য

বড় ধরণের স্পনসরশিপের প্রয়োজন ছিল। তবে মেসির মতো একজনকে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে

পেরে তিনি আনন্দিত এবং মনে করেন তাঁর জন্য খরচ হওয়া প্রতিটি পয়সা পুরোপুরি সার্থক

হয়েছে। এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী মেসির মূল বেতন ১২ মিলিয়ন ডলার

হলেও, আনুষঙ্গিক ক্ষতিপূরণ ও বোনাস মিলিয়ে তা অনেক বেশি। এর বাইরেও বিশ্ববিখ্যাত

ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস এবং লিগ ব্রডকাস্ট পার্টনার অ্যাপলের চুক্তি থেকে মেসি

রয়্যালটি হিসেবে বড় অংকের অর্থ উপার্জন করেন।

মেসির প্রভাবে ক্লাবের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল হয়েছে, তার অন্যতম উদাহরণ

হলো মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নির্মিতব্য ২৬ হাজার ৭০০ আসনের নতুন

স্টেডিয়াম। ব্রাজিলিয়ান আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ন্যু’-র সাথে নামকরণের চুক্তি হওয়ায় এটি

এখন থেকে ‘ন্যু স্টেডিয়াম’ হিসেবে পরিচিত হবে। আগামী ৪ এপ্রিল নবনির্মিত এই মাঠে

প্রথমবারের মতো খেলতে নামবে ইন্টার মায়ামি। মেসির আগমনের পর থেকে ক্লাবের সার্বিক

বাজারমূল্য প্রতি বছর ২২ শতাংশ করে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল নজির।

ইন্টার মায়ামির বিজনেস অপারেশনস প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের আসেন্সি দলের এই জয়যাত্রাকে

বর্ণনা করেছেন মাঠের পারফরম্যান্সের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে। তিনি স্পষ্ট করে

বলেন যে, লিওনেল মেসির মাঠে উপস্থিতি ছাড়া ক্লাব কখনোই এই অবস্থানে আসতে পারত না।

মেসির নেতৃত্বে দল একে একে লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপ জিতেছে। এর

পাশাপাশি রেকর্ড সংখ্যক পয়েন্ট অর্জন এবং ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপে জায়গা নিশ্চিত করা

ক্লাবটির প্রোফাইলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর গত অক্টোবরে

মেসির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ২০২৮ সালের মৌসুম পর্যন্ত তিনি মায়ামির

জার্সিতে মাঠ মাতাবেন। সব মিলিয়ে মাঠের শৈলী আর ব্যবসায়িক বুদ্ধির দারুণ এক রসায়নে

মেসির হাত ধরেই এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন পাওয়ার হাউসে পরিণত হচ্ছে ইন্টার মায়ামি।