খুলনায় সাবেক এমপির জামাতার সন্ধান তিন দিনেও মিল ভারি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় পরিবার মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং গভীর উদ্বেগে ভুগছে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, খুলনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবদুস সোবহান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি রোজা ইফতারের পর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার ছেলে নগরীর পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবিহর নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে ফিরে আসেন। তবে সেটির সিসিটিভি ফুটেজে তাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও এরপর তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নামাজে যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন বাসায় রেখে গিয়েছিলেন, ফলে দ্রুত যোগাযোগ করা যাননি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজখবর নেওয়া হলেও অনেকগুলো অচল থাকার কারণে নেতৃস্থানীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তারা এটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন।

নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা বলেন, ঘটনার পরদিন, ২২ ফেব্রুয়ারি, খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সঙ্গে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ধারাবাহিক তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনও অগ্রগতি স্পষ্ট নয়।

বাবা বলেন, তার ছেলে ব্যবসা এবং বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও কোনো যায়নি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি, যা তার সামাজিক অবস্থান ও সম্মান বৃদ্ধি করেছে। এই ব্যতিক্রমী ব্যক্তির অকারণে নিখোঁজ হওয়াটা বেশ রহস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার মা, স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। পরিবার তার দ্রুত খোঁজ খবর ও উদ্ধার চেয়ে সরকারের প্রতি জোরালো পদক্ষেপ দাবি করেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছি, তাকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করছিনা। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’