বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০০০ কোটি টাকার ত্রাণ দিল

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

ঈদ উৎসবের সবুজ ছন্দে অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের সহায়তা সৃষ্টি করেছে। বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং গ্রাহকদের চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থ ১১.৫ শতাংশ সুদে, ৯০ দিনের জন্য প্রদান করা হয়, যা ঈদ উৎসবের আগে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে ভুগছে, যার কারণে গ্রাহকদের অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করে, এবং তারপ্রেক্ষিতে তহবিল সরবরাহ করা হয়। অন্য এক ব্যাংকারের দৃষ্টিতে, ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখতে এই সুবিধা অপরিহার্য, বিশেষ করে ঈদে নগদ অর্থের চাহিদা যখন একান্ত প্রয়োজন। তবে, তারা মনে করে অতি মাত্রায় তারল্য প্রদান স্বাভাবিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য এই ধরনের সহায়তা জরুরি হলেও, মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলে থাকেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্ব দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। তবে, ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত তারল্য সরবরাহ করলে অর্থনীতি অস্থিতিশীল হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব সহায়তা মূলত ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের (ডিপি) বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে, এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতির উপর চাপ পড়তে পারে।

বর্তমানে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা সংকোচনমূলক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে প্রথম ছয় মাসের জন্য সুদহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে নানা অনিয়ম ও মালিকানা পরিবর্তনের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছে। অতীতে নানা সময়ে পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন এসেছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সহায়তার ধারাবাহিকতা এখনও চালু রয়েছে। এই সমস্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান তারল্য সহায়তাও এরই অংশ।