অর্থমন্ত্রীর সাথে বিজিএমইএর প্রভাবশালী সৌজন্য সাক্ষাৎ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে, যেখানে পোশাক শিল্পের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং সদস্যরা — শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান ও ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী।

বিজিএমইএ সভাপতি প্রথমে মন্ত্রীর প্রতি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগঠন ও পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাতে ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় পোশাক শিল্পের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো তিনি গভীরভাবে বুঝতে পারেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি, পাশাপাশি উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মূল আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:

বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত বিতরণ ও প্রক্রিয়া সহজতর করা: বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে অনেক রপ্তানিচালক ব্যাংক বা বিমা কোম্পানির জটিল অডিট প্রক্রিয়া আর سربিশের কারণে অনুদানের অর্থ আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে প্রণোদনার প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকার অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে পতিত হয়েছে, যা তাদের রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি করছে। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত এবং সহজ পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণের জন্য যোগ্যতা থাকা সমস্ত আবেদন দ্রুত স্বীকার করে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব এড়ানোর জন্য মন্ত্রীর সহযোগিতা চান তারা।

অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌতুকতা স্বীকার করে বকেয়া প্রণোদনা দ্রুত মুক্তি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের ব্যাপারে আশ্বাস দেন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই ধরণের উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুনঃতফসিল ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ক্ষেত্রে সমস্যা: বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, ব্যাংকগুলো অনেক সময় নির্দিষ্ট ঋণের উপর পুনঃতফসিল করে দেয়, কিন্তু যথাযথ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল না থাকায় কারখানাগুলো সচল রাখতে পারছে না। তিনি প্রস্তাব করেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া হলে কারখানা চালু থাকবে এবং ব্যাংকগুলোও তাদের পাওনা ফিরিয়ে পাবেন। এতে করে শিল্পের চাহিদা ও অর্থ সঞ্চালন উভয়ই মোটিভেটেড হবে। তিনি এই বিষয়টিতে অর্থমন্ত্রীর সহমত পান।

ব্যবসা সহজ ও খরচ কমানোর উপায়: বৈঠক চলাকালে বিজিএমইএ নেতারা জানায়, বর্তমান বিশ্ববাজারে প্রবল প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় কমানো সময়ের দাবি। তারা প্রশাসনিক নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য বিশেষ নীতি ও সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুরোধ জানান। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ আরো স্বস্তিদায়ক ও সাধারণ হবে।

অর্থমন্ত্রী নির্দেশ দেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের জন্য উপকারি পরিবর্তন ও সুপারিশের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠাতে। বিজিএমইএ নেতারা আশ্বস্ত করেন, তারা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী সুপারিশ দ্রুত চালু করবেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির মূল आधार, এই খাতের স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার সবসময় পাশে থাকবে। সকল বাধা দূর করে এই শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।