বিশ্বজুড়ে আইসিটি ব্যয় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রমের পথে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ চলতি বছর বিশ্বজুড়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে মোট ব্যয় প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে বিশ্লেষকরা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যে এই খাতে বিনিয়োগ ৬ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে, যা ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের একটি বড় দৃষ্টিনন্দন চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির খাতে ব্যয় যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ডওয়াইড আইসিটি স্পেন্ডিং গাইডে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ভোক্তাপণ্য যেমন ব্যক্তিগত স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের বাইরে, ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আইসিটি বাজারের আকার ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বার্ষিক গড়ে বাড়তে পারে। এ বৃদ্ধির বেশির ভাগটাই নির্দিষ্ট হচ্ছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এআই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা একটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। অতীতে মূলত সফটওয়্যার খাতেই বেশি বিনিয়োগ হলেও, ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে আইসিটি খাতে মোট বিনিয়োগের প্রায় এক তৃতীয়াংশ হবে সফটওয়্যার খাতে। এর মধ্যে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ERP), নিরাপত্তা সফটওয়্যার, এবং উৎপাদন ও পরিচালনাভিত্তিক সফটওয়্যারগুলো মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগের গতি সফটওয়্যার ও সেবা ক্ষেত্রের তুলনায় বেশি হবে, যার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার খাতে নতুন প্রযুক্তি ও ডিভাইসের জন্য বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। এপ্রসঙ্গে, ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের সিনিয়র ডিরেক্টর আন্দ্রিয়া সিভিয়েরো বলেছেন, ‘আমরা এখন একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা “এআই-এভরিহোয়্যার” প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে। এই প্রযুক্তি এখন শুধু পরীক্ষামূলক পর্যায়ের নয়, এটি বাস্তব জীবনে জবাবদিহিতা, উৎপাদনশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ হবে এআই ও ডিজিটাল বিনিয়োগ যাতে সাধারণ প্রক্রিয়াগুলো উন্নত হয়, সিদ্ধান্ত নেওয়া ত্বরান্বিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।’ বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য শুল্ক বৃদ্ধি, নিরাপত্তার ঝুঁকি, এবং মার্কিন সরকারের দপ্তর বন্ধ থাকাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এআই ভিত্তিক অপটিমাইজেশন ও নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য মোটেও বাধা নয়। বরং এসব ঘটনাগুলি ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও ত্বরিত করেছে। অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক আইসিটি ব্যয়ের শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ব্যয় পৌঁছাতে পারে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা বড় করপোরেট বিনিয়োগ ও ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহনযোগ্যতার ফল। পশ্চিম ইউরোপ দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে ৯০৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অবস্থান করবে। আইডিসির রিসার্চ ম্যানেজার আন্দ্রেয়া মিনোনে মন্তব্য করেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো যখন অটোমেশনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন এআই প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে অর্থ ব্যয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অডোস্পেস, প্রতিরক্ষা, বীমা, এবং তথ্যসেবা খাতে এর দ্রুত বাড়তি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেও নানা দেশের সরকার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাজেট বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে, যা সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’ SHARES অর্থনীতি বিষয়: