ফার্নেস অয়েলের দাম ১৪ টাকা ৯০ পয়সা কমলো

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আজ ঘোষণা করেছে যে ভোক্তা পর্যায়ে ফার্নেস অয়েলের মূল্য ঢের কমে গেছে। নতুন নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ৭১ টাকা ১০ পয়সা, যা রবিবার মধ্যরাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে এই জ্বালানি তেল প্রতি লিটার ৮৬ টাকা দরে বিক্রি হত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার শনিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। সূত্র জানায়, বিইআরসি চলতি বছর জানুয়ারি থেকেই ফার্নেস অয়েলের মূল্য পুনঃনির্ধারণের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তাব গ্রহণ ও বিশ্লেষণ শুরু করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ২০ তারিখে বিপিসি প্রথম প্রস্তাব দেয়, এরপর মে, জুন ও জুলাইতে অন্যান্য কোম্পানিগুলিও তাদের প্রস্তাব জমা দেয়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে বিপণন ও পরিবহন চার্জের বাড়ানোর বিষয়টি ছিল।

বিইআরসির প্রক্রিয়াকরণের সময়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিপণন চার্জ ও পরিবহন খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরে, ২৯ জানুয়ারি এসব প্রস্তাবের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

বিইআরসি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করে যে, বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী তাদের নিয়ম অনুসারে ফার্নেস অয়েলের মূল্য ও চার্জসমূহ পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর ফলে, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক এর প্রতিটি লিটার বিপণনের চার্জ ০.৭১ টাকা এবং পরিবহন খরচ ১.২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

ফার্নেস অয়েল মূলত অপরিশোধিত খনিজ তেল থেকে প্রক্রিয়াজাত হয়ে বের হওয়া একটি ভারী জ্বালানি। এটি সাধারণত ঘন ও কালো রঙের তরল, যা উচ্চ তাপমাত্রায় দহন করলে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। এটি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইটভাটা, বস্ত্র শিল্প এবং বড় বয়লার বা চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়। সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় খরচের কারণে শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে, এর মধ্যে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় বায়ুদূষণের ঝুঁকি দেখা দেয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।