রাষ্ট্রদূত মুশফিকের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার অভিযোগ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি সম্প্রতি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জলঘোলা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে তার কাজের অভিজ্ঞতা খুবই সংকটপূর্ণ এবং সুস্পষ্টভাবে অসহযোগিতার প্রতিফলন হচ্ছে। রোববার তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টে উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে আবেদন করার সময় তিনি তথ্য ও সমর্থন পাওয়ার আশায় ছিলেন, কিন্তু তৌহিদ হোসেনের দ্বারা পরিকল্পিত প্রতিবন্ধকতা ও অসহযোগিতায় তার সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে। উল্লেখ্য, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মানবিকাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিবের পদে আবেদন করার জন্য তিনি এই পদে আবেদন করেন, যা তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শে করেছিলেন। তখন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সমর্থন পাওয়ার জন্য তিনি তৎকালীন সরকারের সাথে যোগাযোগও করেছিলেন।

অভিযোগের অংশ হিসেবে তিনি জানান, তৌহিদ হোসেন প্রথমে মৌখিকভাবে এই আবেদন করার অনুমতি দিলেও, পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে ওই আবেদনের জন্য অগ্রসর হওয়ার নির্দেশকণাটি প্রত্যাহার করে নেন। তার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরকারী নোট বা সমর্থন না দেওয়ায় এই আবেদনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এর পরে তৌহিদ হোসেন তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বারবার ফোন করলেও কোন উত্তর দেননি। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ওপর তার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অসহযোগিতার কারণে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং তাদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ অনেকটাই ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সমর্থনের সম্ভাবনা ছিল বলেও তিনি বিশ্বাস করছিলেন, তবে সবসময় নিজের দেশের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি অটল ছিলেন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিষয়টি জানতে চান, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বলেছিলেন যে, মুশফিকের নির্বাচনী সম্ভাবনা কম বলে হয়ত সমর্থন দেওয়া হয়নি। কিন্তু এই যুক্তি তিনি মানতে রাজি নন, কারণ জাতিসংঘে কোনও নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা ভোটাভুটি হয় না। বরং, সদস্য রাষ্ট্রের মনোনয়নের পর জাতিসংঘ সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা তৈরি করে এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে বিদেশে পোস্টিং, জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। ভুলক্রমে কিছু তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশের অনুমতি না দেওয়া হলেও তিনি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত এক বই লেখার পরিকল্পনা করছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি, তবে তিনি কোনওপ্রকার রাজনীতি বা ব্যক্তিগত আক্রোশে নয়, বরং নিজ দেশের স্বার্থে এই বিষয়গুলো প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, এই কূটনৈতিক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির পেছনে নানা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন। ইতোমধ্যে তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা ও ঘটনাবলি নিয়ে তিনি আরও বিস্তারিত আসরেপ করবেন বলে জানিয়েছেন।