বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ২০২৯ সাল পর্যন্ত পেছানোর জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নবনির্বাচিত সরকার সম্প্রতি একটি আবেদন করেছে। সাধারণত ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এর উত্তরণ হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিডিপি)-এর কাছে। এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থবিষয়ক সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে এবং চলমান সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

চিঠিতে উঠে এসেছে যে, গত পাঁচ বছরে দেশের উত্তরণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একের পর এক সংকট দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে ক্ষতি করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিয়ম, প্রচুর রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতি, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা — এই সব কালো ছায়া দেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং বিনিয়োগের অনুপ্রেরণাও কমে গেছে।

বিশেষ করে, বাংলাদেশের রপ্তানি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে এই সময়সূচির ওপর বিশাল নির্ভরতা রয়েছে। বর্তমানে দেশের মূল রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, এলডিসি হিসেবে পায় যে সুবিধা, তা যদি ২০২৬ সালে শেষ হয়ে যায়, তবে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য দমে আসতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নতুন বাণিজ্য চুক্তি এগুলোর কারণে বাংলাদেশ পুরোপুরি প্রস্তুতি ছাড়াই উত্তরণে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ রপ্তানি এখনো এই তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল, আর এই বহুমুখীকরণের প্রক্রিয়া বেশ ধীরগতিতে এগুচ্ছে।

এছাড়াও, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং শিল্পে মানসম্পন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করার কাজগুলো আপাতত লক্ষ্য অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি, যা দেশের উত্তরণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব সংকট ও বাধার জন্য দায়ী কিছু কর্মসূচি সময়মতো বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয় পরিচালিত ‘গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’-এর প্রতিবেদনের ফলাফল বিবেচনা করে, দেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াটি ২০২৯ সাল পর্যন্ত স্থগিতের জন্য আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নেপাল ও লাওসের মত দেশগুলোর মত একই সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব আগেই ছিল, যা বর্তমান সরকার অনুমোদন দিয়েছে।

সরকারের আশা, অতিরিক্ত তিন বছরের সময় পেলে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তিও গড়ে উঠবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে নেতৃত্ব দেবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নপ্রক্রিয়া আরও দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।