সুইডেনের তীব্র নির্দেশ: দ্রুত ইরান ছাড়ার আহ্বান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গরিষ্ঠ উত্তেজনার মধ্যে সুইডেন দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন করে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। স্টকহোম মনে করছে, এই সময়ের মধ্যে ইরান ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এখন অত্যন্ত অস্থির এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ফলে, সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমানে আকাশপথ ও স্থল সীমান্ত উন্মুক্ত থাকায় নাগরিকরা এখনও ইরান ছাড়তে পারছেন। তবে পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে অবনতির দিকে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তাই, যেহেতু এখনও সুযোগ আছে, সুইডিশ নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা এই সতর্কতাকে উপেক্ষা করবেন, তাদের নিজস্ব ঝুঁকি বহন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

সুইডেনের এই কঠোর নির্দেশের পেছনে মূল কারণ হলো, এ অঞ্চলে কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষ বা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হতে পারে এই আশঙ্কা। বিশেষ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভাষা ও সর্বশেষ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের মধ্যেই, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে ‘নায্য চুক্তি’ করার জন্য সীমিত আকারের সামরিক হঠকারিতা সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি ইরান নমনীয় না হয়, তবে অপ্রিয় কিছু ঘটতে পারে।

অন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, পেন্টাগন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে। এমনকি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সুইডেনের দ্রুত সিদ্ধান্তে ধারণা করা হচ্ছে, অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অস্থিতিশীলতা ও উদ্বেগ বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে, সুইডিশ সরকার তাদের নাগরিকদের নিরাপদে প্রস্থান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।