বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ায় দুজন ক্রিকেটার কোমা অবস্থােও গিয়েছিলেন: কোচ সালাউদ্দিন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না পাওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের কিছু খেলোয়াড়ের বিশেষ দুর্দশার কথা জানিয়েছেন বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেছেন তাঁর গভীর ক্ষোভ ও হতাশা, যেখানে তিনি জানান, নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবর্তে, আইসিসি স্কটল্যান্ডকে দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘কলকাতা ও শ্রীলঙ্কায় খেলা দেখার পর মনে হলো যে ওয়াকিটা আমাদের জন্য অনেক সুবিধাজনক হতে পারত। এখানে যদি আমরা খেলতে পারতাম, তাতে আমাদের ভালো করার অনেক সুযোগ থাকত। ম্যাচের মান দেখে আমি বিশ্বাস করতাম, আমাদের ভালো ফলাফল করার সম্ভাবনা ছিল।’

নিজেদের প্রস্তুতি ও স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আফসোস করে কিছুই হবে না। আমাদের দলটি খুবই গোছানো ছিল এবং এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জন্য সম্ভাবনার দরজা ছিল, সব দিক দিয়ে আমাদের বেশ ভালো করার সুযোগ ছিল।’

বিশ্বকাপে খেলা না হওয়ার মানসিক প্রভাব ও চাপের কথাও প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, ঘটনাক্রমে তাঁর দুই খেলোয়াড় কোমায় চলে গিয়েছিলেন—শারীরিক পরিস্থিতির জটিলতায় মাঠে ফিরে আসার জন্য তাঁদের লড়াই চালিয়ে গেছেন। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি জানি, আমার এই দুই খেলোয়াড় প্রায়ই কোমায় গিয়েছিলেন। পাঁচ দিন তারা কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। তবে আমরা তাদের ফিরিয়ে এনেছি, এটিই আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য। মাঠে ফিরে এসে আবার খেলায় অংশ নেওয়া, এইটাই বড় আনন্দ।’

অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারিগরি এবং রাজনৈতিক চাপের বিষয় নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘উনি (আসিফ নজরুল) সংসদ বা সরকারের সিদ্ধান্তের কথা বলছেন, কিন্তু পরে এ বিষয়েও ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন। উনি একজন শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী মানুষ, তাই উনার এমন ভুল কথা বলা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমি মানতে পারছি না।’

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে বড় এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের অপ্রত্যাশিত বঞ্চনার ফলে শুধু ক্রিকেটাররাই নয়, কোচেরাও অনুভব করেছেন গভীর হতাশা। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মানসিক তরঙ্গের ওপর সৃষ্টি হওয়া প্রভাব এবং তাদের সাহস ও মনোবল ধরে রাখার লড়াই এই রিপোর্টের মূল অংশ।