বাউফলে শহীদ মিনারে আলোকসজ্জাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা করা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শোকের এই দিনে শহীদ মিনারকে রঙিন আলোর মাধ্যমে সাজানোর ঘটনাকে অনেকের কাছে অনুভূতির অপমান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শহীদদের আত্মদানকে অবজ্ঞা করার মতো বলে অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে গত রাত থেকেই ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অমর একুশের প্রথম প্রহরে বাউফলের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে একটির দৃষ্টিতে নজর কাড়েন, শহীদ মিনারের চারপাশের ঝলমলে আলোকসজ্জা ও ঝাড়বাতি। সাধারণত ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শোকাবহ দিন হিসেবে পালিত হলেও, বাউফল প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী সাজসজ্জাকে অনেকে মানছেন না। স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল হক ওরফে এমরান হাসান সোহেল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ১৯৫২ সালে এই দিনে বাংলার রূপকাররা মাতৃভাষার জন্য রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। যখন জাতি তাঁদের অকান্ত আত্মত্যাগের জন্য শোকাভিভূত, তখন শহীদ মিনারকে ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো ও রঙিন করা শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার মতো একটা ঘটনা। তিনি আরও যোগ করেন, শোকের দিনে এই ধরনের আলোকসজ্জা তিনি জীবনে দেখেননি এবং এই বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নীরবতায় তিনি বিস্মিত। বাউফলের জিয়া মঞ্চের প্রধান মোহাম্মদ ফিরোজও এই আলোকসজ্জাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে মূল বেদিতে কোনও আলোকসজ্জা নেই, সেখানে বাউফলে এই রঙিন আলোকসজ্জার যৌক্তিকতা কোথায়? তার স্ট্যাটাসের কমেন্টে অনেক নেটিজেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ওঅমর্যাদাকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচনায় ঝড় উঠতে দেখে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ তাঁর দপ্তরের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, এই আলোকসজ্জার মূল উদ্দেশ্য কোনো উৎসব পালন নয়, বরং রাতের অন্ধকারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় দৃশ্যমানতা বাড়ানোর জন্য এই ব্যবস্থা। তিনি বলেন, এই লাইটিংয়ে কেবল জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক স্থানে আলপনা আঁকা হলেও দোষের কিছু নয়। তবে তিনি আরও যুক্ত করেন, জাতীয় পতাকার রঙে আলোকসজ্জা কোনওভাবেই বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। তবুও, এই ব্যাখ্যার পরে অনেকেই মনে করছেন, আলোকসজ্জার বদলে শুধুমাত্র সাধারণ প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাপনা করলেই মূল ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা হতো। মোটামুটি, একুশের প্রথম প্রহরে এই আলোকসজ্জার বিষয়টি বাউফলের জনমনে প্রথম সারির আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। SHARES সারাদেশ বিষয়: