এআইয়ের প্রভাবে চিপ সরঞ্জাম খাতে ১৬% আয় বৃদ্ধি আশা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির সরঞ্জাম খাতে এক বিশাল উল্লম্পন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক প্রান্তিকের মন্থর প্রবৃদ্ধির পরে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ধাপে উঠছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ, এই খাতের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত আয় প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার, যা সরাসরি এই শিল্পে বিনিয়োগ ও চাহিদাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ নয়টি চিপ সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেখানে গত প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৮ শতাংশ, সেখানে এখন তা দ্বিগুণ হয়ে ১৬ শতাংশে পৌঁছানোর দিকে। পাশাপাশি, এসব প্রতিষ্ঠান মোট নিট মুনাফাও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে, যা অষ্টম প্রান্তিকের মতো ধারাবাহিক দুই অংকের প্রবৃদ্ধির রেকর্ড তৈরি করছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর মানুফ্যাকচারিং কোং বা টিএসএমসি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালে তারা মূলধনী বিনিয়োগে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সও তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকা শক্তি হলো এআই এর জন্য প্রয়োজনীয় ‘ডিআরএএম’ স্মৃতি চিপের অপ্রতিরোধ্য চাহিদা। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রেই, নতুন কারখানা বা উৎপাদন লাইন স্থাপন না করে, গ্রাহকরা বিদ্যমান যন্ত্রপাতি সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলশ্রুতিতে, যেমন টোকিও ইলেকট্রনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণাবেক ও মেইনটেইনেন্স ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখছে, তেমনি সিলিকন ওয়েফার নির্মাতারা পুরো বিশ্বের ‘ফ্রন্ট-এন্ড’ চিপ নকশার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বাজারে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির আশা করছে।

ঐতিহ্যবাহী উন্নত চিপ নির্মাণের জন্য অপরিহার্য ‘ইইউভি’ লিথোগ্রাফি সরঞ্জামাদির একমাত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এএসএমএল হোল্ডিং এই ইতিবাচক পরিবর্তনের উপর ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টোফ ফুকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে ইতিবাচক উন্নতি লক্ষিত হচ্ছে এবং চলতি সময়ের মধ্যে তাদের আয়ের পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। মূলত, এআই ভিত্তিক লজিক চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির বাজার শক্তিশালী হওয়ায় কোম্পানিগুলোর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিরোধের পরোয়া না করলেও চীনের বাজারে চিপ তৈরির সরঞ্জামের বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ আটটি চিপ সরঞ্জাম নির্মাতার মোট আয় প্রায় ৩০ শতাংশই চীনা বাজার থেকে আসছে। বিশেষ করে, এএসএমএল এর সরঞ্জাম বিক্রি ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে সেখানে। বিশ্লেষকদের মতে, রফতানি নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা পুরনো প্রজন্মের লিথোগ্রাফি সরঞ্জামগুলোর চাহিদা চীনে এখন উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, চিপ উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত ‘ব্যাক-এন্ড’ সরঞ্জামের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন অ্যাডভান্টেস্ট ও ডিস্কোরও তাদের ব্যবসা বিস্তার করছে। এই সব উপাদানের প্রবৃদ্ধি বিশ্ব চিপ সরঞ্জাম শিল্পকে এক নতুন, লাভজনক উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।