বাফেটের বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও সংবাদপত্র শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের শেয়ার কিনেছে এই কোম্পানি। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া آخری শেয়ারতালিকা থেকে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই সময়টি ছিল বাফেটের বয়সে ও কর্মজীবনের চূড়ান্ত পর্যায়, ফলে এই বিনিয়োগকে তার শেষ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বের বিনিয়োগ মহলে এই পদক্ষেপের গুরুত্ব অনেক। ছয় বছর আগে, অর্থাৎ ২০২০ সালে, বাফেট সংবাদপত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তখন তিনি তাঁর মালিকানাধীন বেশির ভাগ সংবাদপত্র বিক্রি করে দিয়ে এ খাত থেকে তাঁর বিনিয়োগ তুলে নেন। বলেন, প্রচলিত সংবাদপত্রের ব্যবসার সমাপ্তি আসছে, তবে নিউইয়র্ক টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল gibi শক্তিশালী জাতীয় ব্র্যান্ডগুলো এখনও টিকে থাকতে সক্ষম। দীর্ঘ বিরতির পরে, আবারও এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ তার বর্তমান ব্যবসায়ের রূপান্তর ও ডিজিটাল কৌশলের উপর তার আস্থার প্রমাণ দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্ক টাইমস এই কয়েক বছরে নিজেকে একটি শক্তিশালী গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ডিজিটাল গ্রাহক সংগ্রহের পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন শব্দধাঁধা, গেমস ও ক্রীড়াকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের আয়কে বহুমুখী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাংবাদিকতা বিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম ফ্র্যাঙ্কলিন এই বিনিয়োগকে এক ‘পূর্ণ চক্র’ বলে অভিহিত করে বলেন, বাফেটের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য সংকটে থাকা স্থানীয় পত্রিকাগুলোর জন্য বড় শিক্ষা হতে পারে। এই খবর প্রকাশের পর থেকে নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ার দর তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বমুখী হয়েছে।

অন্যদিকে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে তাদের পোর্টফোলিওত বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেলের বৃহৎ কোম্পানি শেভরনে বড় ধরণের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপসারণের পর, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বিশাল তেল সম্পদ, যা শেভরনের শেয়ার দর এই বছরে প্রায় ২৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ।

অন্যদিকে, প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং শর্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বার্কশায়ার। গত প্রান্তিকে অ্যাপলের ১ কোটি শেয়ার এবং ব্যাংক অব আমেরিকার ৫ কোটি শেয়ার তারা বিক্রয় করেছে। তবে বিক্রয় সত্ত্বেও, এখনো অ্যাপল ও ব্যাংক অব আমেরিকার যথাক্রমে ২২ কোটি ৮০ লাখ ও ৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার তাদের কাছে রয়ে গেছে। এছাড়া, জেইকো বিমা, বিএনএসএফ রেলওয়ে ও ডেইরি কুইনের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করে বার্কশায়ার। বাফেটের উত্তরসূরিদের হাতে এখন মূল প্রশ্ন, এই নতুন বিনিয়োগ কৌশল কিভাবে এগিয়ে নেয়া হবে, যা বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির বড় আলোচনার বিষয়।