খোঁজ রেখেছেন কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রীর মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের সময় এক অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বেশী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন, যেখানে কুমিল্লা অঞ্চলের মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে সরকার দেশ ও জাতির সমগ্র উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি মন্তব্য করেন, কৃষি উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে, এবং এর ফলে জাতীয় অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি সুদৃঢ় হবে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মধ্যে মাটির স্বাস্থ্য, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের উপযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়ে সচেতনা বাড়াতে হবে। তিনি বলনে, সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত হলে সার ব্যবহারে কমতি আসবে এবং উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে। এজন্য কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও নির্দেশনামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি শপথ নেওয়ার পরই আমি কৃষির সঙ্গে একাগ্রভাবে যুক্ত একজন প্রকৃত কৃষক। কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা আমি সরাসরি দেখেছি এবং এর সমাধানে কাজ করতে চাই। তিনি উল্লেখ করেন, আগে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন ঘাটতি ছিল। বর্তমানে এসব খাতকে সমন্বিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, যা সরকারের নীতির অঙ্গীকার।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকলেও মাঠ কর্মীরা দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য তাদের দায় দায়িত্ব ও আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টায় কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং এর ফলে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল হিসেবে থাকা অবস্থায় আমি কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে অগ্রাধিকার দেব। গোমতী নদী থেকে মাটি কাটায় সরকার শুষ্ক টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। অবৈধভাবে এক ফোটা মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মকর্তারা।